আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডে পরিবারের বাইরে দুজন অপরিচিত ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পেয়েছে র্যাব। তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দেওয়া তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে র্যাব।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম দেশ রূপান্তরকে জানান, সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাবের অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার শফিকুল আলম অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে প্রতিবেদনটি দাখিল করেছেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে আগামীকাল বুধবার বিষয়টি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসবে।’ র্যাবের প্রতিবেদনে বলা হয়, আমেরিকায় পাঠানো ডিএনএ নমুনার সঙ্গে অপরিচিত দুই ব্যক্তির ডিএনএ নমুনার মিল পাওয়া গেছে। সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় দুজন অপরিচিত পুরুষ জড়িত ছিলেন। সাগরের হাতে বাঁধা চাদর এবং রুনির টি-শার্টে ওই দুই পুরুষের ডিএনএ’র প্রমাণ মিলেছে। এতে আরও বলা হয়, এই মামলায় আসামি তানভীর আহমেদের অবস্থান রহস্যজনক। বিচারিক আদালতে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া যুক্তিযুক্ত হয়নি।
গত বছরের ১৪ নভেম্বর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এক আদেশে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের সবশেষ অবস্থা এবং অপরাধের সঙ্গে আসামি তানভীরের সম্পৃক্ততা প্রতিবেদন আকারে জানাতে ৪ মার্চ পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়। পরে আসামি তানভীর মামলা বাতিল ও হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। আদালত তাকে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেয়।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়াবাসায় খুন হন মাছারাঙ্গা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। হত্যা মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে শেরেবাংলা নগর থানার এক উপপরিদর্শক। পরে মামলাটি মহানগর গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়। এরপর তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বিচারিক আদালত থেকে এখন পর্যন্ত ৭০ বারের মতো সময় নেওয়া হয়েছে।
এ মামলায় গ্রেপ্তার ভবনের নিরাপত্তাকর্মীসহ বেশ কয়েকজন কারাগারে রয়েছেন। বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী পলাশ রুদ্র পাল গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে মুক্তি পান। এছাড়া সাগর-রুনির কথিত বন্ধু তানভীর গ্রেপ্তার হন ২০১২ সালের ১ অক্টোবর। পরে ২০১৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর তিনি জামিন পান।
