হাইকোর্টে অগ্রাধিকার নুসরাত হত্যা মামলা

ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বেঞ্চ গঠন

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২০, ০২:১৪ এএম

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলাটি হাইকোর্টে শুনানির জন্য অগ্রাধিকার পাচ্ছে। চার মাস আগে বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য হাইকোর্টে দুই বিচারপতির সমন্বয়ে একটি বেঞ্চ  গঠন করা  হয়েছে। বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকার ও বিচারপতি শাহেদ নূর উদ্দিনের বেঞ্চে দেশব্যাপী আলোড়ন তোলা এ মামলার শুনানি হবে। গতকাল সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এই বেঞ্চ গঠন করে দেন বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান।

তিনি জানান, নুসরাত হত্যা মামলায় পেপারবুক (মামলার যাবতীয় নথি) প্রস্তুত হয়েছে আগেই। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি নির্ধারণের জন্য সম্প্রতি এটি প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল দুই বিচারপতির বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। শিগগিরই শুনানি শুরু হবে।

বিচারিক আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে আইন অনুযায়ী হাইকোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষে তা কার্যকর করতে হয়। এটিই ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি কারাগারে থাকা আসামিরা বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে জেল আপিল ও আপিলের সুযোগ পান। বিধান অনুসরণ করে বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। গত বছরের ২৪ অক্টোবর নুসরাত হত্যা মামলার রায়ে ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয় ফেনীর বিচারিক আদালত। রায়ের অনুলিপি ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ জনের ডেথ রেফারেন্স ২৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে আসে। ওই দিন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গণমাধ্যমকে জানান, নুসরাত হত্যা মামলায় পেপারবুক প্রস্তুত, ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হওয়ার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন তিনি।

গত বছরের ২৭ মার্চ ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিনা আক্তারের করা মামলায় সিরাজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরই জেরে নিপীড়নকারী ওই অধ্যক্ষ ও তার অনুসারীদের রোষানলে পড়েন নুসরাত। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় বোরকা পরা দুর্বৃত্তরা। পরে ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় সিরাজসহ ১৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)। সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে গত ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যায় সিরাজসহ ১৬ আসামির সবাইকে প্রাণদণ্ড দেয়। পাশাপাশি আসামিদের সবাইকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত