পদত্যাগের পর ইব্রাহিম খালেদ

১৬০০ কোটি টাকা লুট করেছেন পিকে হালদার

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২০, ০২:১৬ এএম

হাইকোর্টের নির্দেশে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের (আইএলএফএসএল) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার ২৫ দিনের মাথায় পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে গত রবিবার পদ ছাড়েন তিনি। বিশিষ্ট এ অর্থনীতিবিদের অভিমত, পিকে হালদার ও তার গ্রুপ মিলে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা লুটে নেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

গতকাল সোমবার ইব্রাহিম খালেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, “২৫ দিন চেয়ারম্যানের পদে থাকাকালে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরের কথা কেউই আমাকে বলেনি। আমাকে বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে জানতে হয়েছে। ওখানকার ‘স্ট্রেসফুল সিচুয়েশনে’ আমার ভগ্ন স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা সম্ভব না। এ কারণে আমি পদত্যাগ করেছি।” আইএলএফএসএলের ভেতরের অবস্থা সম্পর্কে প্রধান বিচারপতির কাছে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

বিশিষ্ট এ ব্যাংকার আরও বলেন, ‘ব্যাংকিং বা ম্যানেজমেন্ট সমস্যা হলে আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে সেটা সারিয়ে তুলতে পারি। ২০০০ সালের প্রথম দিকে পূবালী ব্যাংক রুগ্ণ ব্যাংক হয়ে গিয়েছিল। আমি যোগদান করার পর পূবালী ব্যাংককে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘আইএলএফএসএলের সংকট সে ধরনের না। এখানকার সমস্যা ব্যাংকিংয়েরও না, ম্যানেজমেন্টেরও না। এখানকার সমস্যা হলো টাকা লুট করে নেওয়া হয়েছে। এখানে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার ঋণ। এর মধ্যে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা লুট করা হয়েছে। এটি করেছে পিকে হালদার নামে এক ব্যক্তি ও তার গ্রুপ।’

ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘পিকে হালদার কানাডা চলে গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, টাকা কানাডায় পাচার হয়ে গেছে। লুট করা টাকা দেশের বাইরে চলে গেলে তা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন)। আমাদের মতো সাধারণ লোকের পক্ষে এটা সম্ভব নয়।’

আদালত হয়তো ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে দায়িত্ব দিয়েছিল উল্লেখ করে সাবেক এ ডেপুটি গভর্নর বলেন, ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। আর আমাকে নিয়োগ দিয়েছে আদালত। সে কারণে চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের পর সেখানে আমার কোনো ক্ষমতা বা কর্র্তৃত্ব ছিল না। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারাও আমাকে কোনো সহায়তা করেনি। তাই আমি পদত্যাগ করেছি। এখন প্রতিষ্ঠানটিতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারে। টাকা লুটের বিষয়ে দুদক তদন্ত করলে তা সঠিক পদক্ষেপ হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত