ক্রেডিট কার্ড ছাড়া ব্যাংকের সব ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট। কেন এই বিজ্ঞপ্তিটি অবৈধ বলে ঘোষণা করা হবে নাথ তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত। এ-সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার শুনানিতে বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের বেঞ্চ এ রুল জারি করে। চার সপ্তাহের মধ্যে অর্থ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। শুনানিতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ সায়্যেদুল হক সুমন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান।
ক্রেডিট কার্ড ছাড়া ব্যাংকের সব ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে গত বছরের ২৪ এপ্রিল বিজ্ঞপ্তি জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ। এতে বলা হয়, চলতি বছরের (২০২০) ১ এপ্রিল থেকে এই সুদহার কার্যকর হবে। ওই বিজ্ঞপ্তি চ্যালেঞ্জ করে গত রবিবার (১ মার্চ) মাহফুজুর রহমান নামে এক ব্যক্তির পক্ষে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়্যেদুল হক সুমন। আবেদনের যুক্তিতে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো ব্যাংকঋণের ক্ষেত্রে ৯ শতাংশের বেশি সুদ নিতে পারবে না। মৌখিকভাবে এটিও বলা হয়, আমানতকারী অর্থাৎ যারা টাকা রাখেন তাদের ৬ শতাংশের বেশি সুদ দেবে না। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের এই বিজ্ঞপ্তিতে আমানতকারীদের বিষয়ে কিছু বলা নেই। যে হারে আমানতকারীদের সুদহার দেওয়া হবে তাতে ২ লাখ মানুষকে সুবিধা দিতে গিয়ে ৫০ লাখ আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে শুধু ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কথা রয়েছে। অথচ ভুঁইফোড় কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ দেওয়ার নামে বিশাল অংকের সুদ নিয়ে নিচ্ছে গ্রাহকদের কাছ থেকে, এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কিছু বলা নেই। ব্যারিস্টার সুমন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা শুনানিতে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেছি। হাইকোর্ট আমাদের বক্তব্য শুনে বলেছেন, এ বিষয়ে ইন্টারফেয়ার (হস্তক্ষেপ) করার মতো যেসব উপাদান প্রয়োজন তা তারা পেয়েছেন। আদালত রুল জারি করে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানতে চেয়েছেন।’
