কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনা করে মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি না করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক। বিষয়টি তিনি মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকেও জানিয়েছেন। আলোচনার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী। গতকাল বুধবার সচিবালয় সফররত দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার মার্কিন সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) ক্রিস্টোফার উইলসন ও ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
গতকাল দৈনিক দেশ রূপান্তরে ‘আমদানি আতঙ্কে পেঁয়াজচাষিরা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় অনেক আমদানিকারক ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এতে দেশের পাইকারি বাজারে পণ্যটির দাম কমতে থাকে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। তাদের আশঙ্কা, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হলে দেশি পেঁয়াজের কেজি ১০-১৫ টাকায় নেমে যেতে পারে।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘গত কেবিনেটে (মন্ত্রিসভায় পেঁয়াজ নিয়ে) আলোচনা হয়েছে। সেখানে বাণিজ্যমন্ত্রী (বিষয়টি) তুলেছিলেন। আমরা বলেছি, আমরা চাষিদের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া পেয়েছি। (পেঁয়াজ আবাদের) আওতা বেড়েছে, আশা করি, অসুবিধা হবে না। আমি কেবিনেটে প্রধানমন্ত্রীর সামনে রিকোয়েস্ট করেছি, যখন হারভেস্ট শুরু হবে তখন যেন পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করা হয়। ওই সময়ে ভারতের পেঁয়াজ এসে যেন বাজার ভাসিয়ে দিয়ে না যায়। যাতে আমাদের চাষিরা একটা ভালো দাম পান। প্রধানমন্ত্রী অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সবাইকে আলাপ-আলোচনা করে খুবই সতর্ক থাকতে বলেছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে যথেষ্ট সজাগ এবং সতর্ক আছে।’ চলতি মাসের শেষ দিকে হালি পেঁয়াজ ওঠা শুরু হবে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অবশ্যই চাষিদের স্বার্থটা দেখব।’
গত মঙ্গলবার ফরিদপুরে শিলাবৃষ্টি হওয়ার তথ্য জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘ফাল্গুন মাসে শিলাবৃষ্টি এমনটা কি চিন্তা করা যায়! আমরা খোঁজখবর নিয়েছি, পেঁয়াজের ভালোই ক্ষতি হয়েছে, পাতা নষ্ট হয়ে গেছে। তবে আশা করছি এ বছর ভালো পেঁয়াজ হবে, আমরা খুবই আশাবাদী। কারণ অনেক এরিয়ায় পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। আমরা যে পেঁয়াজের জাত উদ্ভাবন করেছি, সেটা মাঠপর্যায়ে চাষাবাদ হলে বাংলাদেশে পেঁয়াজের সমস্যা থাকবে না। নতুন জাতের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ না হলেও কাছাকাছি হবে। আগে প্রতি হেক্টরে ১০-১১ টন হতো, এখন ১৮-১৯ টন করে উৎপাদন হবে।’
