বাংলাদেশের ক্রিকেটে অধিনায়ক মাশরাফী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটবে শুক্রবার। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষবারের মতো টস করতে নামবেন নড়াইল এক্সপ্রেস। ক্রিকেট মাঠে একজন ‘নেতা’ হিসেবে যিনি হাজারো তরুণের প্রেরণা।
অধিনায়ক মাশরাফীর এই থেমে যাওয়ার সময়ে মোহাম্মদ আশরাফুল মূল্যায়ন করলেন প্রিয় বন্ধুর সাফল্য-ব্যর্থতার। দেশ রূপান্তরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আশরাফুল শুরুতেই মাশরাফীকে আখ্যা দিলেন পারফরমার হিসেবে। বললেন- ‘মাশরাফীকে স্যালুট দিতে হবে।’
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে মাশরাফী এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল অধিনায়কের নাম। সেটা পরিসংখ্যান যেমন বলে, তেমনি পরিসংখ্যানের বাইরে অন্য অনেক কিছুর বিচারেও। কখনো কখনো ‘নেতা’ মাশরাফীর মহিমায় হয়তো আড়ালে চলে যান পারফরমার মাশরাফী।
কিন্তু আশরাফুলের চোখে তা নয়। সবার আগে তিনি মাশরাফীকে দেখেন পারফরমার হিসেবে, ‘যারা অধিনায়ক হিসেবে ভালো করেছে- হাবিবুল বাশার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাশরাফী...। মাশরাফীকে মূল্যায়ন করতে হলে সবার আগে বলব ও একজন পারফরমার। পারফর্ম করেছে বলেই এত লম্বা সময় ও অধিনায়কত্ব করতে পেরেছে।’
২০১৪ সাল থেকে মাশরাফী টানা নেতৃত্বে দিয়ে গেছেন। তবে এর আগেও কয়েক দফা পেয়েছেন নেতৃত্ব। ইনজুরির কারণে লম্বা সময় চালিয়ে যেতে পারেননি কোনো বারই। ২০০৯ সালে প্রথম যখন নেতৃত্ব পান মাশরাফী, সেবার আশরাফুলকে সরিয়েই অধিনায়ক করা হয়েছিল তাকে।
বন্ধু আশরাফুলের কাছ থেকে তখন শুভ কামনাই পেয়েছিলেন মাশরাফী। আর ২০২০ সালে এসে অধিনায়ক মাশরাফীকে স্যালুট দিচ্ছেন আশরাফুল, ‘২০০৯ সালে যখন অধিনায়কত্ব পেল, তখন ওর জন্য সবকিছু কঠিনই ছিল। কারণ অধিনায়ককে তো সব সময় উদাহরণ তৈরি করতে হয়। আগে ব্রেকফাস্টে আসতে হবে। টিম বাসে আগে আসতে হবে, মাঠে আগে নামতে হয়। মাশরাফী কিন্তু এসবের জন্য আইডল ছিল না তখন। কারণ ও সবার শেষে মাঠে নামতো। ওর অভ্যাস ছিল এ রকম।’
কিন্তু মাশরাফী সেই অভ্যাসগুলো বদলে হয়েছেন সবার নেতা। আশরাফুল তাই বলছেন, ‘ওই অভ্যাস পরিবর্তন করে সবকিছু আগে আগে করত। এরপর তো ইনজুরিতে পড়ে গেল। দুই তিন-বার অধিনায়কত্ব পেলেও ইনজুরির কারণে লম্বা করতে পারল না। তবে ২০১৪ সাল থেকে যে টানা ফিটনেস ধরে রেখে এবং টিমটাকে সুন্দরমতো এক সুতোয় গেঁথে একটা জায়গায় নিয়ে গেল। এটা স্যালুট দিতে হবে। এক কথায় অসাধারণ।’
মাশরাফীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ নিজেদের ইতিহাসে সেরা সময় পার করেছে বলে মনে করেন আশরাফুল। বললেন, ‘মাশরাফী যখন অধিনায়কত্ব পেল, বাংলাদেশ দল তো তখন জিততে পারছিল না। ভালো খেলছিল কিন্তু জয় আসছিল না। পরে মাশরাফী অধিনায়ক হওয়ার পর ২০১৫ সাল আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা সময় গেল। বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলল। এরপর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির (২০১৭) সেমিফাইনালে খেলল বাংলাদেশ। এবারের বিশ্বকাপে আট নম্বর হয়েছে। তবে আমরা কিন্তু খুব ভালো খেলেছি।’
বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফী বলেছেন নিজের সিদ্ধান্তেই নেতৃত্ব থেকে সরে যাচ্ছেন। তবে এই সিদ্ধান্ত যে সহজ ছিল না বলেছেন সেটিও। আশরাফুল এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বলছেন, ‘এমন সময় অধিনায়কত্ব থেকে অবসরে যাচ্ছে তখন আসলে আমাদের বেশি ওয়ানডে খেলা নেই। যদি ওয়ানডে থাকত, সে ক্ষেত্রে হয়তো ভিন্ন কিছুও হতে পারত। যেহেতু খেলাধুলা নাই, তাই সরে যেতে হচ্ছে ভবিষ্যতের চিন্তা করে। যারা আসবে তাদের জন্য শুভকামনা রইল।’
সবাইকে একসময় থামতে হয়। অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফীও থামছেন। খেলোয়াড় হিসেবে অবশ্য খেলা চালিয়ে যেতে চান। তবে এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে হলে সাধারণ একজন খেলোয়াড় হিসেবে খেলতে হবে মাশরাফীকে।
যে মাশরাফীকে পারফরমার হিসেবে শুরুতেই উল্লেখ করলেন আশরাফুল, সেই মাশরাফী কি পারবেন দলে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে? আশরাফুলের মন্তব্য, ‘পারফর্ম করেই কিন্তু সে এত বছর অধিনায়কত্ব করেছে। পারফর্ম না করলে বেশি দিন অধিনায়কত্ব করা যায় না। ও যেরকম পারফরমার, সেটা করতে পারলে আশা করি যখন ও খেলা ছাড়তে চাইবে, তখনই খেলা ছাড়তে পারবে।’
