সিলেটের টিলাগড়ে বন বিভাগের ইকোপার্কে (বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র) ৩৩ পশুপাখির মৃত্যুতে পার্কের ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান তানহা এন্টারপ্রাইজের পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণে ঘাটতি রয়েছে কি না তা অনুসন্ধান ও এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন চেয়েছে হাইকোর্ট। এছাড়া বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রটি নিরাপদ ও এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পশুপাখিদের জীবনরক্ষায় সেখানে প্রাণী হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স দিয়ে দ্রুত একটি ইউনিট স্থাপনেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ৩০ দিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিতে বলার পাশাপাশি ওই ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র’র অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এ নির্দেশনাটি পালন করবেন পশুসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। গত বুধবার (৪ মার্চ) বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবসে গণমাধ্যমে আসা এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন যুক্ত করে এ রিট আবেদনটি করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনোজ কুমার ভৌমিক এ আবেদনটি করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত। আইনজীবীরা জানান, সিলেটের টিলাগড়ে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রের ৩৩ পশুপাখির জীবনরক্ষায় বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ও আইনগত কর্র্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এ মর্মে রুল দেয় হাইকোর্ট। পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব, প্রধান বন সংরক্ষক, পশুসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, উপ বন সংরক্ষক ও তানহা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনে বলা হয়, সিলেটের টিলাগড় ইকোপার্ক প্রাণীদের জন্য এক ভয়ংকর মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে অন্তত ৩৩টি পশুপাখি মারা গেছে। এর মধ্যে চারটি হরিণ, চারটি চুকার প্যাট্রিজ, চারটি ময়ূর ও একটি জলা মোরগ রয়েছে। এছাড়া ২০টি লাভ বার্ড মারা গেছে।
