মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার আদাশরী জামে মসজিদে তালা দেওয়া থাকায় সাত মাস ধরে নামাজ পড়তে পারছেন না মুসল্লিরা। এ অবস্থায় গত বুধবার রাতে হরিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন মসজিদটির বর্তমান সভাপতি নুরুল আমিন ও ৩২ জন গ্রামবাসী।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বলড়া ইউনিয়নের আদাশরী গ্রামের একমাত্র জামে মসজিদটির কার্যক্রম ২৫ বছর ধরে পরিচালিত হয়ে আসছিল। ওই গ্রামের ৪২টি পরিবারের লোকজন মসজিদটিতে নামাজ আদায় করে আসছিল। তবে ২০১৯ সালের ১১ আগস্ট মসজিদটিতে তালা দেন ওই গ্রামের নূরুল হক ও তার সমর্থকরা। কেউ মসজিদের চাবি চাইলে তাদের অত্যাচার করা হয়। তারা বিভিন্ন হুমকি দেওয়ায় প্রাণভয়ে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে পারছেন না।
এ বিষয়ে আদাশরী গ্রামের আবুল কাসেম বলেন, নূরুল হক তার দলবল নিয়ে মসজিদে তালা দেয়। পরের দিন মক্তব পড়তে গিয়ে মসজিদ বন্ধ দেখে শিক্ষার্থীরা। আমি মসজিদের চাবি আনতে গেলে নূরুল হক ও তার লোকজন আমাকে মারধর করে। একই গ্রামের আবদুর রহমান বলেন, ‘ঈদের নামাজ পড়ার অভিযোগে নূরুল হক ও তার লোকজন আমার মাথায় কুপিয়ে জখম করে। আমার বাড়ি ভাঙচুর করে।’
মসজিদটির সভাপতি নুরুল আমিন বলেন, ‘আমরা ২৫ বছর ধরে মসজিদটি পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু হঠাৎ করে নূরুল হক ও মঞ্জুরুল আলম মসজিদটিতে ২০১৯ সালে ১১ আগস্ট তালা দিয়ে চাবি নিয়ে যায়। মসজিদে কেউ নামাজ পড়তে চাইলে তাকে হুমকি দেয় তারা। গত ঈদের দিনও তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। পরে মসজিদে তালা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুজনের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে আমরা আর মসজিদের চাবি চাইনি।’ তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে নূরুল হক বলেন, ‘মসজিদের তালা আমি দিইনি। নুরুল আমিনের লোকজন তালা দিয়ে আমার নামে অপবাদ দিচ্ছে।’
এ বিষয়ে হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুঈদ চৌধুরী বলেন, মসজিদটিতে তালা দেওয়ার বিষয়ে গত বুধবার রাতে লিখিত অভিযোগ হাতে পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
