মাঝরাতে চবিতে ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২০, ০২:১৬ এএম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) গত বুধবার মধ্যরাতে ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ১৫ জন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এএফ রহমান হলে রাত ১টার দিকে শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক ‘বিজয়’ গ্রুপের সঙ্গে ‘কনকর্ড’ ও ‘সিক্সটি নাইন’-এর কর্মীদের সংঘর্ষের পর ৫৯ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে ৭ জনকে আটক রেখে বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত সোমবার রাতে আলাওল হলের ২৩৪ নম্বর কক্ষ নিয়ে বিজয় গ্রুপের এক কর্মীর সঙ্গে কনকর্ডের এক কর্মীর ঝামেলা হয়। পরে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ থেকে বুধবার দিনব্যাপী সংঘর্ষের পর মধ্যরাতে বিজয় গ্রুপের ওপর একজোট হয়ে হামলা চালায় কনকর্ড ও সিক্সটি নাইনের নেতাকর্মীরা। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলে ভাঙচুর চালিয়ে বিজয়ের কর্মীদের হল থেকে বের করে দেয় কনকর্ড গ্রুপের নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এএফ রহমান হল থেকে বিজয় গ্রুপের কর্মীরা বের হলে হলের সামনে মুখোমুখি হয় উভয়পক্ষ। পরে বিজয় গ্রুপ এএফ রহমান হলের ভেতরে এবং কনকর্ড ও সিক্সটি নাইন গ্রুপের কর্মীরা হলের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ইট-পাথর ছোড়াছুড়ি হয়। পরে এএফ রহমান হলে ঢুকে ছয় রাউন্ড ফাঁকা গুলি, পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় ছাত্রলীগের কর্মীরা। এ সময় হলের ৮৭টি রুম ও পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। রুমের মালামালও লুট হয়। সংঘর্ষে দুপক্ষের অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হন। পরে রাত ২টার দিকে পুলিশ এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কনকর্ড ও সিক্সটি নাইন গ্রুপের ৫৭ ও বিজয় গ্রুপের ২ জনকে আটক করে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাতভর হল ঘিরে পাহারাও দেয় পুলিশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, আহত ৩০ জনকে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ১৫ জনকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। তারা সেখানে চিকিৎসাধীন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এসএম মনিরুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছাত্রলীগের দুটি পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি হবে, একটা মামলাও হবে। ৮৭টির মতো রুমে ভাঙচুর হয়েছে। এতে কয়েক লাখ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পুলিশ প্রথমে ৫৯ জনকে আটক করলে পরে ৭ জনকে রেখে বাকিদের ছেড়ে দিয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত