পাট মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী

দেশে ২৮২টি পাটপণ্য হলেও অনেকে জানেন না

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২০, ০১:৪৯ এএম

দেশে পাটের তৈরি ২৮২টি বহুমুখী পণ্য হলেও তা অনেকে জানেন না বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর। গতকাল শুক্রবার জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে চার দিনব্যাপী পাট মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।গোলাম দস্তগীর বলেন, ‘অনেকে আগে বলত পাট মরে গেছে, কিন্তু এখন থেকে মনে করতে হবে পাঠ জেগে উঠেছে। পরিবেশ রক্ষায় পাটের তৈরি বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদন করছে বাংলাদেশ। আমরা ইতিমধ্যে ২৮২টি বহুমুখী পণ্য উৎপাদন করছি। যা অনেকেই জানেন না। তাদের কাছে অনুরোধ আপনারা পাট মেলায় যাবেন এবং পাট সম্পর্কে জানবেন। সেখানে গেলে কোনো না কোনো পণ্য আপনাদের পছন্দ হবেই। এ বিশ্বাস আমাদের আছে।’ তিনি বলেন, ‘চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্যে ৬১৬ দশমিক ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয় করেছি আমরা। এ আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২০ দশমিক ৮২ শতাংশ বেশি।’

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিনামূল্যে এ মেলা পরিদর্শন করা যাবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মির্জা আজম, মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) সওদাগর মোস্তাফিজুর রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বস্ত্র ও পাট খাতে বিশেষ অবদানের জন্য ১১টি ক্যাটাগরিতে ১১ জনকে পুরস্কৃত করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একটা সময় আমরা পাট দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতাম। কিন্তু আমরা সে অবস্থান ধরে রাখতে পারিনি। এখন আমরা আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছি। আমাদের পাটের সোনালি আঁশের স্বপ্ন শুরু হয়েছে। এটি আমরা নিশ্চিত করব। আর বেশিদিন নেই যেখানে বিশ্ব বাজারে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘এখন পাট দিয়ে বিভিন্ন রকমের গিফট আইটেম তৈরি হয়। আমাদের দেশে যখন বিদেশি কোনো কূটনীতিক আসে তখন আমরা তাদের পাটের তৈরি বিভিন্ন গিফট আইটেম দিয়ে থাকি। তারা সেগুলো সে দেশে নিয়ে যায় এবং বিশ্বময় এগুলো তুলে ধরে। এটাও আমাদের একটা অর্জন।’

পর্তুগালের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পায়ের জুতা বাংলাদেশি পাট দিয়ে তৈরি হয় জানিয়ে সচিব বলেন, ‘বিশ্ব ফুটবলার রোনালদোর পায়ের শু বাংলাদেশের পাট দিয়ে তৈরি হয়। যেটি আর কোথাও বিক্রি হয় না। সরাসরি তাদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয় উৎপাদনের পর। তাই সবার কাছে অনুরোধ আমরা যখন প্রিয়জনকে উপহার দেই এবং বিদেশিদের গিফট আইটেম পাঠাই সে সময় যেন পাটের পণ্য দেওয়া হয়। এতে পাটের বিস্তার ঘটবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত