কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জীবিত অবস্থায় ফেরত পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তার মেজ বোন সেলিমা ইসলাম। গতকাল শনিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে বোনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় খালেদা জিয়াকে মানবিক কারণে মুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান সেলিমা ইসলাম।
দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি। গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে তিনি বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন।
খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা বলেন, ‘উনার স্বাস্থ্যের অবস্থা আগের মতোই আছে। কোনো কিছুর পরিবর্তন হয়নি। শ্বাসকষ্টের কারণে উনি নিঃশ্বাস নিতে পারছেন না। তার বাম হাতটা সম্পূর্ণ বেঁকে গেছে। সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছেন না, খেতে পারছেন না, খেলে বমি হয়ে যাচ্ছে।’
খালেদা জিয়ার শ্বাসকষ্টের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসএমএমইউ হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. জিলন মিয়া সরকার গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শ্বাসকষ্ট হলে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস (অক্সিজেন) দেওয়ার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া আছে। রোগীর পক্ষ থেকে বলা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে জামিন আবেদন নাকচ হওয়ার পর এই প্রথম খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্বজনরা সাক্ষাৎ করেন। বিকেল ৩টায় তারা বিএসএমএমইউতে যান। প্রায় এক ঘণ্টা সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে যান খালেদার স্বজনরা। খালেদা জিয়ার মেজ বোন সেলিমা ইসলাম ছাড়াও স্বজনদের মধ্যে ছিলেন ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার ও তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, ছেলে অভিক ইস্কান্দার ও সামিয়া ইস্কান্দার। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদারও উপস্থিত ছিলেন।
হাইকোর্টে জামিন আবেদন নাকচের বিষয়টি খালেদা জিয়া জানেন কি না, সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে সেলিমা ইসলাম বলেন, ‘উনি এসব বিষয়ে সবকিছু জানেন। আমরা মনে করি, মানবিক কারণে তাকে মুক্তি দেওয়া উচিত। তার স্বাস্থ্যের অবস্থা খুবই খারাপ। এতকিছুর পরও আমরা তাকে জীবিত অবস্থায় হাসপাতাল থেকে নিয়ে যেতে পারব কি না, সেটা নিয়ে সন্দিহান। আমরা তো বলছি, সরকার অন্তত মানবিক দিকটা বিবেচনা করে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিক।’
