বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করতে ও হবু কনেকে আংটি পরাতে গিয়ে হবিগঞ্জের সড়কে বরসহ নিহত ১০ জনের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নিহতদের জানাজা শেষে সাতজনকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। অন্য তিনজনের লাশ তাদের নিজ এলাকা বরিশালে নিয়ে যাওয়া হয়। একসঙ্গে এত লোকের জানাজা এলাকায় এই প্রথম বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।
এর আগে ভোরে হবিগঞ্জ থেকে নিহতদের ফতুল্লার পাগলা মুসলিমপাড়া ও চিতাশালে নিয়ে আসা হয়। পরে সকাল সাড়ে ৮টায় তাদের জানাজা হয়। এরপর সকাল ৯টায় পাগলা শাহি মহল্লা কবরস্থানে পাঁচজন ও দেলপাড়া কবরস্থানে দুজনকে দাফন করা হয়।
নিহত ১০ জনের মধ্যে আব্বাস উদ্দিন, ইমন, রাব্বী, রাজিব ও হাজী মহসীনের লাশ দাফন করা হয় পাগলা শাহি মহল্লা কবরস্থানে। আর সুমনা ও তার শিশু বাচ্চা খাদিজার লাশ দাফন করা হয় দেলপাড়া কবরস্থানে এবং ইমরান, খলিল ও আসমার লাশ বরিশালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে লাশ বাড়িতে আনার পর খবর পেয়ে নিহতদের বাড়িতে শোকের মাতম দেখা দেয়। লাশ দেখে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখতে বাড়িতে এসে ভিড় জমায় এলাকার শত শত নারী-পুরুষ।
স্থানীয় কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘নিহতদের মধ্যে আব্বাস উদ্দিন আমার প্রতিবেশী। তিনি একটি ব্যাংকে চাকরি করতেন। তার ছেলে ইমন কাতারে থাকত। ছেলের বিয়ে পাকাপোক্ত করতে গত বৃহস্পতিবার রাতে ছেলেসহ আত্মীয়স্বজন নিয়ে হবিগঞ্জ যাচ্ছিলেন আব্বাস। কিন্তু পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়। আমি একসঙ্গে এত লোকের জানাজায় কখনো অংশগ্রহণ করিনি।’
