দেশের বাজারে পর্যাপ্ত ভোগ্যপণ্য ও মিলগুলোতে যথেষ্ট কাঁচামাল রয়েছে জানিয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রেতারা আতঙ্কিত হয়ে চাহিদার অতিরিক্ত পণ্য না কিনলে করোনাভাইরাসের প্রভাবে কোনো পণ্যের দাম বাড়বে না। তারা সবাইকে স্বাভাবিকভাবে পণ্য কেনারও আহ্বান জানান। আর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। ভাইরাসটি যদি বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ে, সে ক্ষেত্রে খাদ্য অধিদপ্তর ও সরকারের বিপণন প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রস্তুত রয়েছে। এমনকি রাজধানী ঢাকাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হলে, প্রতিটি মহল্লায় ট্রাক বসিয়ে পণ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।
এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাজারের সরবরাহ শৃঙ্খলা (সাপ্লাই চেইন) খুব ভালো অবস্থায় আছে। রমজান উপলক্ষে টিসিবি ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিল। পণ্যসংকট দেখা দিলে রমজানের আগেই আমরা এসব পণ্য নিয়ে মাঠে নেমে যাব। আমি ভোক্তাদের বিনীত অনুরোধ করব, কোনোভাবেই আতঙ্কিত হয়ে বাড়তি পণ্য কিনে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করবেন না। এখনো পরিস্থিতি খুব ভালো অবস্থায় আছে। ভয়ের কোনো কারণ নেই। বাজারে কোনো পণ্যসংকট সৃষ্টি হবে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নিয়মিত বাজার তদারকি করবে। কোনোভাবেই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দ্রব্যের দাম বাড়তে দেওয়া হবে না।’
গতকাল রবিবার দেশে তিনজন করোনাভাইরাস আক্রান্তের তথ্য প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর থেকেই জনসাধারণের মনে কিছুটা আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। অনেকে ধারণা করছেন, ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানীতে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিতে পারে। অনেকে আবার একধাপ এগিয়ে কোয়ারেন্টাইনের বিষয়েও ভাবছেন। ফলে অনেকে বেশি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার চিন্তাভাবনা করছেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভোক্তারা যদি সবাই একত্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়েন, তাহলে কিছুটা সংকট দেখা দিতে পারে। অন্যথায় কোনো প্রভাব পড়বে না। এমনকি অল্পসংখ্যক মানুষও যদি বাড়তি পণ্য কেনে, তাতেও কোনো সমস্যা হবে না। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বাসিন্দা মাসুম রেজা বলেন, ‘করোনা আক্রান্তের পর অনেক দেশ তাদের শহরগুলো সিল করে দিয়েছে। বাংলাদেশেও একই অবস্থা হলে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যেতে পারে। কারণ অতীতে সামান্য ঝড়েও পণ্যের দাম বাড়িয়েছিল ব্যবসায়ীরা। তাই কিছু বাড়তি চাল-ডাল-তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে রাখব বলে ভাবছি।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রাইস মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি কাওসার আলম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাজারে যে পরিমাণ চালের সরবরাহ আছে, তাতে এক মাস মিলাররা চাল না দিলেও সমস্যা হবে না। আর সামনে বোরো মৌসুম। এখন ক্রেতারা যদি সবাই মিলে চাহিদার দ্বিগুণ চাল কেনে, তাহলে আমাদের কিছু করার থাকবে না। আমাদের আহ্বান থাকবে, চাহিদার সামান্য পরিমাণ চাল বেশি কিনুন। কিন্তু অতিরিক্ত চাল কিনে সংকট তৈরি করবেন না।’
সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, ‘আমাদের ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত পণ্য মজুদ রয়েছে। নিয়মিত বাজারে পণ্য ছাড়ছি। তাই করোনাভাইরাসের প্রভাবে কোনো প্রকার পণ্যসংকটের সুযোগ নেই। আর অবস্থা এতটা ভয়াবহ হয়েছে বলে মনে হয় না। তারপরও এটা বলতে পারি, পরিস্থিতি যা-ই হোক, পণ্যসংকট পড়বে না। আমরা পর্যাপ্ত পণ্য মজুদ করেছি।’
