জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, নারী নির্যাতন বন্ধ করতে হলে পরিবার থেকেই নারীদের প্রতি বৈষম্য কমিয়ে আনার শিক্ষা দিতে হবে। পরিবারে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ শিক্ষা দিলে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ করা সহজ হবে। গতকাল রবিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নারী উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, সমাজকে এগিয়ে নিতে হলে নারী-পুরুষকে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। নারীর অধিকার ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ’৭২ সালের সংবিধানেই দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন। আজ বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নারী উন্নয়নে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ বাহিনীসহ সব ক্ষেত্রে আজ নারীদের অংশগ্রহণ দৃশ্যমান। নারীরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সব দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি বলেন, শোষণ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে বঙ্গবন্ধু আজীবন লড়াই সংগ্রাম করেছেন। আর তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ছায়াসঙ্গী হয়ে কাজ করে গেছেন বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। নারীদের সার্বিক মুক্তিসহ সব আন্দোলন সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর জন্য অনুপ্রেরণা ছিলেন আলোকিত এই নারী।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ওমর ফারুক। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন। অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। স্পিকার বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার তুলে দেন। এ সময় জাতীয় প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর হাতে নারী দিবসের শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, মানবজমিন সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরী, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমা মিনু, আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, পিয়ালি বেগম প্রমুখ। কবিতা পাঠ করেন কবি হেলাল হাফিজ ও সোহরাব হাসান।
ফরিদা ইয়াসমিন ‘নারী উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক প্রবন্ধে যুদ্ধকালে নির্যাতিত নারীদের বীরাঙ্গনা খেতাব প্রদানসহ নারী অধিকার রক্ষায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সাংবিধানিকভাবে, আইনগতভাবে, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের নারীদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন পথিকৃৎ।
তিনি বলেন, আজ বিশ্বের নারী-পুরুষের বৈষম্য প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের চেয়েও উপরে। বাংলাদেশের অবস্থান ৪৮তম। এক্ষেত্রে আমেরিকার অবস্থান ৫১তম, ভারতের অবস্থান ১০৮ ও পাকিস্তানের অবস্থান ১৪৮।
