প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, বেসরকারি খাতের উন্নয়নে সহায়ক নীতিসহায়তার প্রশ্নে অনেক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ব্যাংকঋণের সুদ নিয়ন্ত্রণ করে বাজার। তারপরও ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ হার সুদে ঋণ নিয়ে মুনাফা করার কঠিন বাস্তবতা আমলে নিয়ে সরকার হস্তক্ষেপ করেছে। তবে এটা চূড়ান্ত ব্যবস্থা নয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা হবে। ভ্যাট, করসহ কাস্টমস ব্যবস্থা পরিপূর্ণ অটোমেশনে চলে এলে এ নিয়ে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। কোম্পানি আইন হয়েছে। দেউলিয়া আইন নিয়ে কাজ চলছে। রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনার প্রয়োজনে তৈরি পোশাকের মতো সব খাতকেই একই সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
বিশ^ব্যাংকের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) এক জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। ‘উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার পথে বাংলাদেশের অভিযাত্রা : বেসরকারি খাতের ভূমিকা’ নামের এই জরিপ প্রতিবেদন গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ উপলক্ষে আইএফসি এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার (এমসিসিআই) যৌথভাবে এক সংলাপের আয়োজন করে।
সালমান এফ রহমানের বক্তব্যের সময় এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর তাকে প্রশ্ন করেন, সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাতের আস্থার সংকট কীভাবে দূর হবেÑ জবাবে সালমান এফ রহমান বলেন, অনেক সুযোগ খুলে দেওয়ার অপব্যবহার হয়েছে। বন্ডেড ওয়্যার হাউজের ক্ষেত্রে এই অভিযোগ আছে। বিজিএমইএ এবং বিকেএমইকে এজন্য দায়ী করা হয়। এ রকম কিছু কারণে আস্থার সংকট কাটছে না। ব্যবসায়ীদেরকেই আগে স্বচ্ছতা প্রমাণ করতে হবে। অপব্যবহার প্রতিরোধের দায়িত্ব নিতে হবে।
সংলাপে সরকারি-বেসরকারি আস্থার সংকটের কথা স্বীকার করেছেন বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা জানেন না কীভাবে বেসরকারি খাত পরিচালিত হয়। তারা যখন সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থাকে তখনই বেসরকারি খাতের নানা রকম সমস্যা হয়। সরকারি কর্মকর্তাদের একটা নির্দিষ্ট ফ্রেমে কাজ করতে হয়Ñ সেটাও একটা বড় কারণ।
আইএফসির জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে অর্থ সংস্থানকে মনে করে ২৪ শতাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান। ১৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠান মনে করে দুর্নীতি। ১১ শতাংশের মতে বড় চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। ৯ শতাংশ কোম্পানি মনে করে অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রতিযোগিতা। গত বছরের ফেব্র্র“য়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে এই জরিপ চালানো হয়। ১০৩টি কোম্পানিরও ওপর এই জরিপ চালানো হয়েছে। জরিপ চালানো প্রতিষ্ঠানগুলোর ৯০ শতাংশই স্থানীয়। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে জরিপ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর, বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক ও এমসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবীর বক্তব্য রাখেন ।
