করোনাভাইরাসের কারণে এর মধ্যেই স্থগিত হয়েছে একাধিক ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসর। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন আপাতত স্থগিত করেছে নবম বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমস। এর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড মুজিববর্ষ উপলক্ষে এ আর রহমানের কনসার্ট এবং বিশ^ একাদশের সঙ্গে এশিয়া একাদশের দুটি প্রদর্শনী টি-টোয়েন্টি ম্যাচ স্থগিত করে। ফিফার পরামর্শে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচও আপাতত আয়োজন থেকে সরে এসেছে বাফুফে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে। সম্প্রতি বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন করোনাভাইরাস বিবেচনায় এনে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন লিগের ম্যাচগুলো সারা দেশের বিভিন্ন ভেন্যুতে আয়োজন না করে এক ভেন্যুতে আয়োজনের। আজ এ নিয়ে জরুরি সভায় বসতে যাচ্ছে বাফুফের পেশাদার লিগ কমিটি। যে সভায় ঠিক হবে লিগের ভবিষ্যৎ।
আজ ও কাল এ দু’দিন খেলা হয়ে লিগের চলমান সূচি অনুযায়ী প্রায় ২০ দিনের জন্য ছেদ পড়ার কথা। এই সময়টায় কথা ছিল বাতিল হওয়া ২৬ মার্চ বিশ^কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচের জন্য জাতীয় দলের প্রস্তুতি নেওয়া। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে ম্যাচটা স্থগিত হওয়ায় জাতীয় দলের ক্যাম্পও হচ্ছে না। তাই এই সময়টায় লিগ বন্ধ না রেখে চালিয়ে নেওয়ার একটা ইঙ্গিতও মিলেছিল বাফুফে সভাপতির কথায়। আজ তাই সূচিতে পরিবর্তন আনারও জোর সম্ভাবনা আছে। লোকশূন্য গ্যালারি ও এক ভেন্যুতে লিগ আয়োজন এবং লিগ সূচিতে পরিবর্তন আনার ব্যাপারটি নিয়ে বেশ ক’টি ক্লাবের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস তাদের হোম ভেন্যু করেছে নীলফামারী শেখ কামাল স্টেডিয়ামকে। সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের হোম ভেন্যু ময়মনসিংহ রফিকউদ্দিন ভুইয়া স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম আবাহনীর চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়াম, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের সিলেট জেলা স্টেডিয়াম, মুক্তিযোদ্ধার গোপালগঞ্জ শেখ মনি স্টেডিয়াম এবং মোহামেডানের কুমিল্লা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ স্টেডিয়াম। এছাড়া বাকি সাতটি দলের ভেন্যু ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম।
বাফুফে চায় ঢাকার বাইরের দলগুলোর হোম ম্যাচগুলো বঙ্গবন্ধুতে আয়োজন করতে। যেটা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান, ‘আমরা অনেক টাকা খরচ করে নীলফামারীকে নিজেদের মতো করে প্রস্তুত করেছি। হোম ভেন্যুর সুবিধাটা আমরা কেন নেব না। কালকে (আজ) সভায় আমরা কোনো অবস্থাতেই এক ভেন্যুতে লিগ আয়োজনকে সমর্থন দেব না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এমনিতেই তো ১৫-২০ দিনের একটি বিরতি আসছে লিগে। করোনাভাইরাসের জন্য আরও কিছুদিন লিগ বন্ধ রাখলেই তো হয়। ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো যৌক্তিকতা নেই।’ শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের পরিচালক সালেহ জামান সেলিমের দাবি আবার অন্যরকম, ‘ভেন্যু কমে একটা করা হয়, তবে সেটা পরে আর বদলানো চলবে না। এই মৌসুমে সব ম্যাচ সেক্ষেত্রে এক ভেন্যুতেই করতে হবে। কারণ আমরা অনেক কষ্ট করে নিজেদের ভেন্যু প্রস্তুত করেছি।’ চট্টগ্রাম আবাহনীর ম্যানেজার আরমান আজিজ বলেন, ‘বৃহত্তর স্বার্থে যেকোনো সিদ্ধান্ত মেনে নিতে রাজি আছি। তবে কথা দিতে হবে বর্তমান অস্বাভাবিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার নিজ নিজ ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ দিতে হবে।’ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কোচ আবদুল কাইয়ুম সেন্টু মনে করেন এই সিদ্ধান্তে তাদের মতো দল নিজেদের ভেন্যুর সুযোগটা হারাবে, ‘আমরা প্রথমে বাইরে খেলতে চাইনি। বাফুফেই আমাদের বাধ্য করেছিল ভেন্যু বাইরে নিতে। ভেন্যুটাও খেলার উপযোগী করতে আমাদের অনেক ব্যয় হয়েছে। এখন যদি আমাদের এক ভেন্যুতে খেলতে হয়, তবে সেটা হবে দুর্ভাগ্যজনক।’ মোহামেডানের ম্যানেজার ইমতিয়াজ সুলতান নকিব করোনার কারণে লিগ বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে, ‘ভেন্যু বন্ধ না করে আমার মনে হয় লিগ বন্ধ রাখা উচিত। কারণ অনেক বিদেশি এখন বিভিন্ন জেলায় গিয়ে খেলতে চান না। তবে এক ভেন্যুতে লিগ আয়োজনটা ঠিক হবে না।’ পেশাদার লিগ কমিটির সভাতে আজ জানা যাবে লিগের ভবিষ্যৎ।
