পছন্দের প্রার্থী নিয়োগ দিতে নীতিমালা বদলের তোড়জোড়!

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২০, ০৩:৫৫ এএম

এবার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) প্রস্তাবিত শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর আগে ২০১৭ সালে বিজ্ঞপ্তির অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ, স্বজনপ্রীতি, অপেক্ষাকৃত বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালী এক শিক্ষকের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্নকারী মেয়েকে নিয়োগ, উপাচার্যের জামাতাকে বিশেষজ্ঞ সদস্য করে তার মাধ্যমে ভাগ্নেকে নিয়োগসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বলছেন, এবার প্রভাবশালী আরেক শিক্ষকের মেয়েকে নিয়োগ দিতেই শিক্ষক নীতিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ৬০টির অধিক পদে শিক্ষক নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক অধ্যাপক দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, ২০১৭ সালের বিতর্কিত নিয়োগের পর এবারও তেমন নিয়োগ দিতে দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছে প্রশাসন। গত নিয়োগে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল হক বেগের মেয়ে তাহরিমা হক বেগকে ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ফিন্যান্স বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাহরিমা আশা ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। কিন্তু ওই পদে একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তারা আরও বলেন, এবার আরেকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা প্রশাসনের আরেক প্রভাবশালী শিক্ষকের মেয়েকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। শুনেছি তার সিজিপিএ কম। আর তাই শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

ইউজিসির শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী, কৃষি/কৃষি প্রাধান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট অনুষদ/বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগে আবেদনের জন্য স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকত্তোর উভয় পরীক্ষায় সিজিপিএ-৪-এর মধ্যে ন্যূনতম ৩.৫০ থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ ও আপগ্রেডেশন নীতিমালা, ২০২০ প্রণয়ন কমিটি আবেদনের শর্ত হিসেবে সিজিপিএর পাশাপাশি ৭০ শতাংশ  নম্বর যুক্ত করার প্রস্তাব করেছে, যা অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। প্রস্তাবটি বর্তমানে সিন্ডিকেট সভায় পাস হওয়ার অপেক্ষায়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভিন্ন ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেডিংয়ের নম্বর বিভিন্ন। অর্থাৎ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩.৫ পেতে হলে ৮০ শতাংশ, আবার কোনোটিতে পেতে হয় ৯০ শতাংশ নম্বর। শতাংশ নম্বর আবেদনের শর্ত করা হলে, এমন প্রার্থী থাকবেন যার সিজিপিএ ৩.৫০-এর চেয়ে কম। সারা দেশে সরকার যখন পারসেরটেন্স উঠিয়ে দিয়ে গ্রেডিং সিস্টেম চালু করেছে, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়টি আবারও সনাতন পদ্ধতিতে ফিরে যাচ্ছে।

এই নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সেকেন্দার আলী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গ্রেডিং নম্বরের ভেরিয়েশনের কারণে এটা প্রস্তাব করা হয়েছে। কাউকে সুবিধা দেওয়ার জন্য নয়।’

ইউজিসির সদস্য দিল আফরোজ বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিদেশে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রেডিং সিস্টেম নেই, তাই এটা করা হয়ে থাকতে পারে। সাধারণত পাবলিকে পড়া শিক্ষার্থী বেশি স্ট্যান্ডার্ড হয়ে থাকে, তাই নিয়োগ বোর্ডে যারা থাকেন তারা পাবলিক ব্যতীত প্রাইভেটের প্রার্থীকে নিয়োগ দেন না।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপিসমর্থিত সাদা দলের সভাপতি ও জেনেটিক অ্যান্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহিদ জেবা বলেন, ‘প্রাইভেটে পড়ে পাবলিকের টিচার হওয়ার নজির দেশে নেই; যা এখানে হয়েছে। এখানে নিয়ম ছাড়াই অনেক কিছু করা হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত