করোনাভাইরাসে ৮৭ জন আক্রান্ত ও দুজনের মৃত্যুর পর ভারত সরকার এটিকে ‘বিপর্যয়’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সার্ক সদস্যভুক্ত দেশগুলোকে জোটবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভাইরাসটিকে ‘বিপর্যয়’ বলে মেনে নিল ভারত।
গতকাল শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, কভিড-১৯ এ যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের পরিবারকে চার লাখ রুপি করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। তবে সরকারি কর্মকর্তারা জানান, ভাইরাসের এই প্রকোপকে কোনোভাবেই স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত জরুরি অবস্থা বলা যাবে না।
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, সরকারি এ ঘোষণার ফলে রাজ্যগুলো পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সহায়তায় গড়া রাজ্য বিপর্যয় তহবিল থেকে অর্থ খরচ করতে পারবে। এর আগে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে ভারত ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সব ধরনের পর্যটক ভিসা বন্ধ এবং যেসব দেশে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে, সেখানকার নাগরিকদের ভিসা বাতিল করে।
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগামী সোমবার ১৬ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সব সরকারি এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
এই সময় বন্ধ থাকবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা। তবে উচ্চ মাধ্যমিক, আইসিএসই, সিবিএসই’র মতো যে পরীক্ষাগুলো চলছে তা চলবে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।
গতকাল শনিবার মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘আগামী ৩০ মার্চ আবার পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ‘নভেল করোনাভাইরাস ছড়ানোর পরিস্থিতি মাথায় রেখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), জাতিসংঘ এবং কেন্দ্রীয় সরকার যে পরামর্শ দিয়েছে, তার ভিত্তিতেই রাজ্য সরকার স্কুল-মাদ্রাসা-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জনস্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত।’
রাজ্য সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং বেসরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ কয়েকদিন নির্দেশ অনুযায়ী বন্ধ থাকবে। সেইসঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও বাড়ি থেকে কাজ করতে অনুরোধ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
