করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি। সংস্থার বাংলাদেশে কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ বলেছেন, এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। সরকারের এই আবেদন এখন বিবেচনা করছে এডিবি। ঋণ, মঞ্জুরি, প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তার বিষয়গুলো বিবেচনায় রয়েছে তাদের।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশকে করোনা ইস্যুতে সহযোগিতার এই কথা জানিয়েছেন তিনি। অনুষ্ঠানে সরকারের সঙ্গে ৪০ কোটি ডলারের একটি ঋণচুক্তি সই হয়। স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘দক্ষিণ এশীয় উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (সাসেক) সংযোগ প্রকল্প-২ এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ’ নামের এই প্রকল্প করিডরের অবকাঠামো সংহত করবে। বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের নবনিযুক্ত সচিব ফাতেমা ইয়াসমিন এবং এডিবির পক্ষে মনমোহন প্রকাশ। এতে এডিবির ঢাকা অফিসের এবং ইআরডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে করোনার প্রভাব প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এডিবি কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনার প্রভাব ন্যূনতম আকারে হবে বলে মনে করে এডিবি। যতটুকু প্রভাব তা ভালো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মোকাবিলা করা গেলে বড় ধরনের কোনো সমস্যায় পড়বে না বাংলাদেশ। তবে প্রভাব যা-ই হোক না কেন বাংলাদেশকে পরিস্থিতি অনুযায়ী সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে এডিবি। করোনার পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি।
এর আগে করোনার প্রভাবে বাংলাদেশের অন্তত ৩ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে এডিবির পক্ষ থেকে। ইআরডি সচিব বলেন, ইতিমধ্যে কিছু কিছু উন্নয়ন প্রকল্পে করোনার প্রভাব পড়েছে। অনেক উন্নয়ন প্রকল্পে বেশ কয়েকজন চীনা নাগরিক কাজ করছেন। ছুটিতে নিজ দেশে গিয়ে তারা আটকা পড়েছেন। এছাড়া কিছু নির্মাণসামগ্রী আসে চীন থেকে। এগুলো পাইপলাইনে আটকা পড়েছে। এ কারণে প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন তারা। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন বলে জানান তিনি। চুক্তি অনুযায়ী এডিবির ঋণ ৫ বছরের রেয়াতিকালসহ ২৫ বছরে পরিশোধ করবে বাংলাদেশ। সাসেক উন্নয়নে বাংলাদেশকে এডিবির এটি দ্বিতীয় পর্যায়ের ঋণ। এর আগে প্রথম পর্যায়ে ৩০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা দিয়েছে এডিবি।
