‘মুক্তির মহানায়ক’ মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২০, ০৩:১০ এএম

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান শুরু হবে আতশবাজির মাধ্যমে। আজ রবিবার ১৭ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আতশবাজির মাধ্যমে শুরু হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘পিক্সেল শো’র মাধ্যমে শেষ হবে এই অনুষ্ঠান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সব বেসরকারি টিভি চ্যানেল, সোশ্যাল ও অনলাইন মিডিয়ায় একযোগে সম্প্রচার করা হবে। এই অনুষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে ‘মুক্তির মহানায়ক’। গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

কামাল চৌধুরী বলেন, ‘গত ১০ জানুয়ারি থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা শুরু হওয়ার পর থেকে আমরা অধীর আগ্রহে মুজিববর্ষের সূচনার জন্য অপেক্ষা করে আছি। আগামীকাল বঙ্গবন্ধুর শতবর্ষের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। আমরা উদযাপন কমিটি থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করেছি। তৃণমূল পর্যায় থেকে সারা দেশে এবং দেশের বাইরে বছরব্যাপী এসব অনুষ্ঠান পালন করা হবে।’

তিনি বলেন, বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জাতীয় কমিটির সভায় স্বল্প পরিসরে কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য পুরো অনুষ্ঠান প্রক্রিয়া পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। জনসমাগম এড়ানোর জন্য জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। তবে রেকর্ডকৃত বিভিন্ন অনুষ্ঠান সব টেলিভিশন, অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় একযোগে প্রচার করা হবে।’

কামাল চৌধুরী আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৭ মার্চ রাত ৮টায়। তাই সেই সময়ে আতশবাজি টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। আমরা আশাকরি দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ পর্যন্ত এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারবেন এবং সরাসরি সম্প্রচারের কারণে সারা বিশ্বের মানুষ এটি উপভোগ করতে পারবেন। রাত ৮টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশাপাশি ঢাকা সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে একযোগে দেশব্যাপী আতশবাজি অনুষ্ঠান করা হবে। এরপর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে লেজার শো, গ্রাফিকস ফেব্রিকেশন সম্প্রচার করা হবে। এরপর মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেবেন। বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা শেখ রেহানা তার অনুভূতি প্রকাশ করবেন। এরপর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে শেখ রেহানার লেখা কবিতা প্রধানমন্ত্রীর আবৃত্তিতে প্রচার করা হবে। বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সংস্থার প্রধানদের বাণী প্রচার করা হবে। অন্যান্য অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে থিম সং, যন্ত্র সংগীত, শত শিশুর কণ্ঠে সংগীত। অনুষ্ঠান শুরু হবে শিশুদের কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে। দুই ঘণ্টার অনুষ্ঠানে পিক্সেল শো, কোরিওগ্রাফিসহ আরও কিছু আয়োজন রয়েছে। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সারা বিশ্বের মানুষ বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতে পারবে।’

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। গতকাল সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কর্মসূচি জানানো হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ সকাল সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির একটি প্রতিনিধিদল টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেবে। মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশব্যাপী বিশেষ প্রার্থনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল হবে। এ ছাড়া সকাল ৮টায় তেজগাঁও গির্জায় ও সকাল ৯টায় মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী, সকাল ১০টায় মেরুল বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু প্রার্থনা সভার আয়োজন করেছে।

দুপুর ১২টায় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক উপকমিটির উদ্যোগে আজিমপুর এতিমখানা প্রাঙ্গণে অসহায়, দুস্থ ও এতিমদের মাঝে খাবার ও বস্ত্র এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্যবহার্য সামগ্রী বিতরণ, দুপুর ১টায় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বনানী কড়াইল বস্তিতে এবং মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এতিম ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাবার ও মিষ্টি বিতরণ। এ ছাড়া বাদ আসর রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডে দুস্থদের মাঝে খাবার ও মিষ্টি বিতরণ করা হবে। সারা দেশেই অনুরূপ কর্মসূচি পালন হবে।

রাত ৮টায় বঙ্গবন্ধুর জন্মক্ষণ উপলক্ষে সারা দেশে একযোগে আতশবাজি প্রদর্শনী ও ফানুস ওড়ানো হবে। ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ধানমণ্ডি রবীন্দ্র সরোবর, হাতিরঝিল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসসি ও জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় হবে আতশবাজি প্রদর্শনী। এ ছাড়া দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কে আলোকসজ্জা করা হবে।

এদিকে রাত ৮টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে প্রদীপ প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করবে কেন্দ্রীয় ১৪ দল। পরে সেখান থেকে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে তারা।

জন্মশতবর্ষ ও জন্মদিন উদযাপনে বর্ণিল সাজে সেজেছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স। আজ শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে যাবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে গোপালগঞ্জের পুলিশ লাইনস থেকে বেদগ্রাম মোড়, গোপালগঞ্জ-বাঁশবাড়িয়া সড়কে ঘোনাপাড়া থেকে টুঙ্গিপাড়া আলোকিত করা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ফুলগাছ ও বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। গোপালগঞ্জের ৫ উপজেলার সড়ক-মহাসড়কে ব্যানার-ফেস্টুন ও তোরণ নির্মাণ করেছেন নেতাকর্মীরা। প্রতিটি উপজেলায় মুজিববর্ষে থাকছে নানা আয়োজন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত