ফেইসবুকে নিজের পেইজে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ১৭ মার্চকে স্মরণ করলেন। সেই সঙ্গে ফলোয়ারদের প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন ওইদিন এমন ঐতিহাসিক ম্যাচের জয়সূচক রানটির সময় কে কোথায় ছিলেন। স্মৃতি হাতড়ে সবাই দিচ্ছেন জবাব।
বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফী ইংরেজিতে যে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার বাংলা করলে অনেকটা এমন দাঁড়ায়, ‘১৩ বছর আগে এই দিনে আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপে আমরা প্রথমবারের মতো ভারতকে হারিয়েছিলাম! যখন জয়সূচক রানটি হচ্ছিল তখন আপনারা কে কোথায় ছিলেন?’
সে এক অদ্ভুত ঘোরলাগা দিন। হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বে উইন্ডিজ বিশ্বকাপে খেলতে গেল বাংলাদেশ। মাশরাফীর ছেলেবেলার বন্ধু মানজারুল ইসলাম রানা জাতীয় দল থেকে ছিটকে পড়েছেন। বিশ্বকাপ দলে জায়গা হয়নি। মাশরাফীরা যখন ক্যারিবীয় দ্বীপে রানা তখন দেশে বিভিন্ন জায়গায় ‘খ্যাপ’ খেলে ফিরছেন।
১৬ মার্চ, ২০০৭। খুলনায় এক মর্মান্তিক মোটরবাইক দুর্ঘটনায় আরেক ক্রিকেটার সেতুর সঙ্গে মারা যান রানাও। দেশের হয়ে ৬টা টেস্ট এবং ২৫টা ওয়ানডে খেলা অলরাউন্ডার রানা মাত্র ২২ বছর বয়সে চলে গেলেন সবাইকে ছেড়ে। হতবিহ্বল জাতীয় দল। মাশরাফী বন্ধুর জন্য কিছু করতে চান। অধিনায়কের সঙ্গে পরামর্শ করেন। গোটা দলকে তারা উজ্জীবিত করেন রানার জন্য পরের দিন ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচটা জিততে। প্রাণপণ লড়াইয়ের সেই অঙ্গীকার পোর্ট অব স্পেনের মাঠে অসাধারণ লড়াকু বানায় বাংলাদেশকে। রাহুল দ্রাবিড়ের নেতৃত্বের ভারতীয় দলে তখন সৌরভ গাঙ্গুলি, বিরেন্দর শেবাগ, শচিন টেন্ডুলকার, যুবরাজ সিং, এম এস ধোনি, হরভজন সিং, জহির খানরা। বাংলাদেশের কাছে ৫ উইকেটের হারের ধাক্কা পরে সামলাতে না পেরে বিশ্বকাপের দাবিদার ভারত প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয়। ৯.৩ ওভারে ২ মেইডেন দিয়ে ৩৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে মাশরাফী হন ম্যাচসেরা।
১৯২ রানের টার্গেট ছিল। মুনাফ প্যাটেলকে কাভার ড্রাইভ করে একটা রান নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েছিলেন তখন খুবই তরুণ মুশফিকুর রহিম। ওটাই ছিল মাশরাফীর প্রশ্নের সেই জয়সূচক রান।
আসলেই তো? বাংলাদেশে তখন গভীর রাত। কিন্তু বাঁধভাঙা উল্লাসে সারা দেশে অসংখ্য মানুষ ঘরের বাইরে বেরিয়ে উৎসব করেছিলেন। আপনি তখন কী করছিলেন?
