ফুটবল সংকটে, অলিম্পিক অনিশ্চিত

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২০, ১২:৩৭ এএম

উয়েফা প্রেসিডেন্ট আলেকজান্দার সেফেরিন বলেছেন, ইউরোপের ফুটবল সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি। পাল্টা হিসেবে কেউ উয়েফা প্রেসিডেন্টকে বলতেই পারেনÑ ফুটবল কোনছার, করোনাভাইরাসের কারণে গোটা মানবজাতিই ঘোরতর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। সত্যি তাই আমেরিকার কয়েকটি শহরে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে। ইতালিতে মৃত্যু-মিছিল বেড়েই চলছে। ফরাসিরা ‘লক ডাউনে’ চলে গেছে। গোটা ইউরোপে করোনা আতঙ্ক এমনভাবে ছড়িয়েছে যে, ফুটবল আসর বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন সংগঠকরা। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে এক বছরের জন্য। আগেই বন্ধ করা হয়েছে সিরি আ, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, ফরাসি লিগ ওয়ান, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ইউরোপা কাপ।

এককথায় ইউরোপের ফুটবল এখন আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে গেছে। ফুটবলকেন্দ্রিক অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। স্বাভাবিক অবস্থা কবে ফিরবে সুনির্দিষ্টভাবে সেটাও কেউ বলতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে উয়েফা প্রেসিডেন্ট আলেকজান্দার বলেছেন, ‘ফুটবল ইতিহাস যত বড় সংকটের মুখোমুখি হয়েছে তার মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড়। আমরা জানি এই ভাইরাস সারা ইউরোপের ফুটবল এবং জীবনকে অসম্ভব করে তুলেছে। সব ধরনের প্রতিযোগিতা থামিয়ে দিয়েছে।’

করোনাভাইরাসের কারণে দারুণ আর্থিক ক্ষতির সামনে দাঁড়িয়ে আছে উয়েফা। ইউরো এক বছর পিছিয়ে যাওয়ায় কতটা ক্ষতি হবে তার ইঙ্গিত দিয়ে উয়েফা প্রেসিডেন্ট। ধারণা, ৫৭৪.৮ মিলিয়ন ইউরো ক্ষতি হতে পারে উয়েফার। এছাড়া বিজ্ঞাপন এবং প্রচার শর্তের ক্ষেত্রে আরও ২ বিলিয়ন ইউরো ক্ষতির আশঙ্কা আছে। সেফেরিন বলেছেন, ‘ইউরোপ এবং পৃথিবীর আর্থিক পরিস্থিতি আমাদেরও ক্ষতি করবে। শুধু ইউরো পিছিয়ে দেওয়ার কারণেই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব না, বরং অর্থনৈতিক সংকটের কারণেও ক্ষতির মুখে পড়ব। এখন থেকেই ঐক্যবদ্ধভাবে ভবিষ্যৎ ক্ষতি মোকাবিলার কথা ভাবতে হবে। আমার এখনো বিশ্বাস আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এই সংকট থেকে মুক্তিলাভ করতে পারব। সংকট মুক্তির পর আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসতে পারব।’ ইউরোপের ক্লাবগুলোও ফুটবল বন্ধ হওয়ার কারণে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে। সেফেরিন তাই বলেছেন, ‘আমরা সবাই আসলে একই রকম নাজুক পরিস্থিতির সমনে দাঁড়িয়ে।’

১ লাখ ৮০ হাজার সংক্রমিত মানুষের কথা মাথায় রেখে মঙ্গলবারই ইউরোর মতো এক বছর পিছিয়ে গেছে কোপা আমেরিকাও। এই বছরের ১২ জুন থেকে ১২ জুলাই এই টুর্নামেন্ট হওয়ার কথা ছিল। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী টুর্নামেন্ট হতে পারে পরের বছর ঠিক একই সময়ে।

ইউরোপের সামনে অবশ্য ইউরো পিছিয়ে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। উয়েফার প্রেসিডেন্ট সেফেরিন বলেছেন, ‘ইউরোপীয় ফুটবলটা আমরাই পরিচালনা করি। বহু মানুষের রুটিরুজি এর সঙ্গে জড়িয়ে। কিন্তু মারণ-ভাইরাসের দ্রুত সংক্রমণ এই মুহূর্তে আমাদের সবার সবচেয়ে বড় শত্রু। এমন একটা সময় ফুটবল-সমাজকে তাদের দায়িত্ববোধ দেখাতে হবে। নিজেদের একতাবদ্ধ থাকাটাও জরুরি। সেই সঙ্গে এই মহামারীর বিরুদ্ধে যারা লড়াই করছেন, তাদের পাশে থাকাও দরকার। ফুটবলের ভক্ত, এই খেলাটার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অসংখ্য কর্মী এবং ফুটবলারদের স্বাস্থ্যই আমাদের কাছে সবার আগে।’

উয়েফা প্রেসিডেন্ট ক্ষতি কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায় সে কথাও বলেছেন, ‘এমনিতে আমার মনে হয় সবচেয়ে বড় স্বার্থত্যাগটা উয়েফাই করেছে। ইউরো ২০২০-কে এক বছর পিছিয়ে দেওয়া হলো। এর জন্য বিশাল আর্থিক ক্ষতি মেনে নিয়েই। তবে নতুন সূচিতে টুর্নামেন্ট করার জন্য ৫৫ দেশের যাবতীয় ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে প্রাথমিক স্তরে ও মেয়েদের ফুটবলে উন্নতি যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, তা-ও দেখা হবে।’

ইউরোর মতো ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ অলিম্পিকও পিছিয়ে যাওয়ার হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়ে গ্রীষ্মকালীন টোকিও অলিম্পিকের জন্য আদর্শ পরিস্থিতি এখন নেই। ২৪ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত টোকিওতে অলিম্পিক হওয়ার কথা। আইওসির মুখপাত্র বলেছেন, ‘এটা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তাই আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত