করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষিত হতে পারে এমন আশঙ্কায় ক্রয়চাপ বেড়েছে বাজারে। এতে অতিরিক্ত ভোগ্যপণ্য কিনেছেন ভোক্তারা। অনেকে মাসখানেকের খাবার জোগাড় করছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেড়েছে চাল-ডালসহ ভোগ্যপণ্যের দাম। বিভিন্ন চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ২-৫ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগামী শনিবারের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে। আর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ আমদানি বেশি হয়েছে, তাই পণ্যের কোনো সংকট হবে না। গতকাল বুধবার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য যৌক্তিক রাখতে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে অভিযানও চালিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মোবাইল টিম। উত্তরায় এ অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল জব্বার মণ্ডল।
এ বিষয়ে গতকাল বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কোনো পণ্যের মজুদ-সরবরাহ কম নেই। অতিরিক্ত পণ্য কিনে অহেতুক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করবেন না। প্রতিটি পণ্যের যথেষ্ট মজুদ আছে। জনগণ মনে করতে পারে সমস্যা হবে, কিন্তু আসলে কোনো সমস্যা হবে না। করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ায় জনগণ আতঙ্কিত হয়ে গেছে। তারা হঠাৎ করে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য ক্রয় করছে। তাই গত দুই দিনে খুচরা বাজারে দামে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। গত দুই দিন এ অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।’
সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গতকালের তথ্য অনুযায়ী, চিকন চালের দাম কেজিতে ৫ টাকা, মাঝারি চাল ৪-৫ টাকা, মোটা চাল ২ টাকা, মসুরডাল ৫ টাকা, দেশি ও আমদানি আদার দাম ১০-২০ টাকা বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এসব পণ্যের দাম আরও বেশি বেড়েছে। এ ছাড়া বেড়েছে বিভিন্ন সবজি ও মাছের দাম।
৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়, যা বাড়ছে। করোনার বিস্তার ঠেকাতে ১৬ মার্চ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এরপর থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে, করোনা ঠেকাতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করা হতে পারে, যাতে নিত্যপণ্যের সরবরাহ কমে দাম বাড়তে পারে। করোনা শনাক্তের পর মাস্ক ও স্যানিটাইজারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কিত ভোক্তা ঝুঁকি না নিয়ে পণ্যবাজারের দিকে নজর দেয়। ১৭ মার্চ ছুটির দিন থাকায় ক্রেতাদের বড় একটি অংশ বাজার থেকে চাহিদার অতিরিক্ত চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, আলু, ভোজ্যতেল, চিনি, বিভিন্ন মসলাসহ যেসব পণ্য মজুদ রাখা যায় সেগুলো কিনে নেয়। একত্রে অনেক ক্রেতা চাহিদার অতিরিক্ত পণ্য কেনায় বাজারে সরবরাহ সংকট সৃষ্টি হয়। সুযোগ বুঝে অসাধু বিক্রেতারাও দাম বাড়িয়ে দেন।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘তিন দিন ধরে বাজারে অস্বাভাবিক ক্রয়চাপ। আগে যেসব ক্রেতা ২০ কেজি চালের বস্তা কিনতেন, তারা এখন ৫০ কেজি কিনছেন। অন্যান্য পণ্যেরও একই অবস্থা। প্রথম দিন দাম ঠিক থাকলেও মঙ্গলবার থেকে আড়তদাররা চালের দাম বাড়ান। আমদানিকারকরা ডালের দাম বাড়িয়েছেন। আড়তেও নাকি চালের সংকট।’
চালের দাম বাড়ার বিষয়ে বাংলাদেশ রাইস মিল মালিক সমিতির সভাপতি ও রশিদ অটোর স্বত্বাধিকারী আবদুর রশিদ বলেন, ‘বাজারে চালের কোনো ঘাটতি ছিল না। আমরা দামও বাড়াইনি। কিন্তু করোনা আতঙ্কে ক্রয়চাপ বেড়েছে। এই সুযোগে আড়তদাররাও দাম বাড়িয়েছে। আমরা বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছি। আশা করি দু-তিন দিনের মধ্যে সংকট দূর হবে। তবে মৌসুম শেষের দিকে হওয়ায় চিকন চালের দাম কমানো সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।’
সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, ‘আমাদের পর্যাপ্ত পণ্য মজুদ আছে। বাজারে আমাদের সরবরাহকৃত পণ্যের সংকট সৃষ্টি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
