চীনে বিদেশফেরতদের জন্য আরেক হাসপাতাল

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২০, ০৬:১৩ এএম

বিশ্বজুড়ে মহামারী রূপ নেওয়া করোনাভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে চীনে জয় দেখছে বিশ্ববাসী। ভাইরাসটির উৎসস্থল দেশটির হুবেই প্রদেশে বুধবার নতুন কোনো রোগী পাওয়া যায়নি। তবে দেশটির অন্যান্য এলাকায় ওইদিন আরও বেশ কয়েকজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন যারা সবাই বিদেশ থেকে আক্রান্ত হয়ে এসেছেন। এই অবস্থায় দেশটিতে নতুন করে সংক্রমণের আশঙ্কা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে লড়াকু চীন বিদেশফেরত রোগীদের জন্য ইতিমধ্যে নিয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।   

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে চীনের রাজধানী পেইচিংয়ে আসা আক্রান্তদের জন্য হাসপাতাল চালু করেছে চীন। সেখানে বিদেশফেরত সব নাগরিকদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে।

এর আগে সার্স ভাইরাসের সময় ওই মেডিকেল সেন্টারটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এবার সেটাই করোনাভাইরাসের জন্য পুনর্নির্মাণ করা হলো। এতে সময় লেগেছে ৫৩ দিন এবং ১৫ হাজারের বেশি কর্মী একসঙ্গে কাজ করেছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ভ্রমণকারীদের

 প্রথম দলটিকে পেইচিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শিয়াওতাংশান হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

নতুন করে পুনর্নির্মাণ করা হাসপাতালে ১৬০০ বেড রয়েছে এবং সেখানে ছয় শতাধিক মেডিকেল কর্মী থাকবেন। সেখানে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের করোনার টেস্ট করা হবে এবং কারও মধ্যে করোনার লক্ষণ দেখা দিলে তাদের চিকিৎসা শুরু হবে।

২০০৩ সালে এক সপ্তাহেই ওই হাসপাতাল নির্মাণ করে সে সময় সার্সে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। গত ২৩ জানুয়ারি পেইচিংয়ের কর্মকর্তারা নতুন করে এই হাসপাতাল পুনর্নির্মাণের কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত নেন।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরেই প্রথম করোনার উপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপরই দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। চীনের বাইরে ১৭৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস। কয়েক মাস ধরে করোনার সঙ্গে রীতিমতো যুদ্ধ করে যাচ্ছে চীন। গত কয়েক মাসে প্রতিদিনই করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছিল। কিন্তু প্রথমবারের মতো বুধবার এই অবস্থার পরিবর্তন চোখে পড়েছে। হুবেই প্রদেশের হেলথ কমিশন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত হুবেই প্রদেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৬৭ হাজার ৮০০ এবং শুধুমাত্র উহানেই ৫০ হাজার ৫ জন।

পেইচিংয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন করে করোনায় আক্রান্ত ৫৪ জনের সবাই অন্যান্য দেশ থেকেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে করোনার বিস্তার ঠেকাতে চীন যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে তাদের সেই চেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় গত সোমবার কর্মকর্তারা ঘোষণা করেন যে, চীনে প্রবেশ করা সবাইকে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে থাকতেই হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত