গভীর রাতে বাসা থেকে তুলে নিয়ে মাদক মামলায় জড়িয়ে সাজা ও নির্যাতনের ঘটনায় কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোছা. সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নির্যাতিত সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম। আরিফুল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কুড়িগ্রাম সদর থানায় তার পক্ষে এজাহারটি দাখিল করেন বাংলা ট্রিবিউনের অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদক নুরুজ্জামান লাবু। এ সময় এজাহারটি গ্রহণ করেন থানাটির ওসি মাহফুজার রহমান।
এজাহারে সুলতানা পারভীন ছাড়াও কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার (আরডিসি) নাজিম উদ্দিন এবং সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এসএম রাহাতুল ইসলামসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩৫-৪০ জন সরকারি কর্মচারীকে বিবাদী করা হয়েছে।
আরিফুলের এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৪ মার্চ রাত সোয়া ১২টায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সাংবাদিক আরিফুলের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে তাকে মারধর করে তুলে নিয়ে আসে। পরে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে আরিফুলকে এনকাউন্টারের চেষ্টা চালায়। এরপর জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে আবারও তাকে নির্যাতন করে। সেখানে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে জোর করে আরিফুলের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আরিফুলের অভিযোগ গ্রহণের পর কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি মাহফুজার রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ অভিযোগপত্রটি নিয়ে রাখলাম। এ ব্যাপারে পরবর্তী সময়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গত শুক্রবার মধ্যরাতে বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে কথিত মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ও পরে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের সমালোচনা করে সংবাদ প্রকাশের জেরে আরিফুলকে শায়েস্তা করতে ওই অভিযান চালানো হয় বলে ভাষ্য তার স্বজনদের। এ ঘটনায় দেশব্যাপী প্রবল সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন এবং আরডিসি নাজিম উদ্দিনসহ তিন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়। জেলা প্রশাসকের পাশাপাশি এ তিন কর্মকর্তাকেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। বাকি দুজন হলেন সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এসএম রাহাতুল ইসলাম।
কুড়িগ্রাম শহরের একটি সরকারি পুকুর সংস্কারের পর জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন নিজের নামানুসারে ‘সুলতানা সরোবর’ নামকরণ করতে চেয়েছিলেন উল্লেখ করে বাংলা ট্রিবিউনে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন আরিফুল ইসলাম। গত বছর ১৯ মে ‘কাবিখা’র টাকায় পুকুর সংস্কার করে ডিসির নামে নামকরণ! শিরোনামে ওই সংবাদটি প্রকাশ হয় বাংলা ট্রিবিউনে। তবে শেষ পর্যন্ত পুকুরটির সেই নামকরণ করা হয়নি।
