করোনাভাইরাস

রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২০, ০৬:৪১ এএম

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে রাজশাহী থেকে সারা দেশে দূরপাল্লার বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিকেল ৩টার পর রাজশাহীর দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে রাজশাহী বিভাগের অন্য জেলাগুলোতে বাস চলাচল করবে।

রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী বলেন, তারা করোনাভাইরাসের কারণে রাজশাহী থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কম ছড়াবে।

এই পরিবহন শ্রমিক নেতা বলেন, ‘রাজশাহীতে দূরপাল্লার যতগুলো বাস আছে, সেগুলো আজ রাজশাহী ছেড়ে যাবে। কিন্তু সেগুলো যাত্রী নিয়ে রাজশাহীতে আসবে না। এই সিদ্ধান্ত বিকেল ৩টা থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে রাজশাহী বিভাগের অন্য জেলাগুলোতে বাস চলাচল করবে।’

ন্যাশনাল ট্রাভেলসের কাউন্টারের কর্মকর্তা আকরাম হোসেন বলেন, বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে তাদের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যারা আগেই টিকিট কেটে রেখেছেন তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। কবে নাগাদ বাস চলাচল শুরু হবে এখনই বলা যাচ্ছে না।

এদিকে করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজশাহীর সব বিনোদনকেন্দ্র ও পার্ক বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক। গত বুধবার জেলা প্রশাসক হামিদুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ জেলার সব ইউএনওকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের ওই চিঠিতে বলা হয়, দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সব বিনোদনকেন্দ্র, পার্ক, পর্যটন স্পট কর্র্তৃপক্ষকে তাদের নিজ নিজ নিয়ন্ত্রণাধীন কেন্দ্র বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান এবং তার অধিক্ষেত্রে সব ধরনের জনসমাবেশ যা করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি সৃষ্টি করে তা বন্ধ রাখার নিমিত্তে জরুরিভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

তবে গতকালও রাজশাহীর কয়েকটি বিনোদনকেন্দ্র খোলা রাখা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা খোলা ছিল। সেখানে ২ শতাধিক দর্শনার্থীও দেখা গেছে। সপরিবারে যান কেউ কেউ।

তবে রাজশাহী সিটি করপোরেশন পরিচালিত শহীদ কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা তিন দিন আগেই সেখানে ব্যানার ঝুলিয়ে রেখেছি। সেদিন থেকেই এটি বন্ধ ঘোষণা করা আছে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম বলেন, ‘সব ধরনের জনসমাগম বন্ধ করে বুধবার সন্ধ্যায় সব উপজেলার ইউএনও এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। রাজশাহীতে সব বিনোদনকেন্দ্র বন্ধে ডিসির কড়া নির্দেশ রয়েছে।’

রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, ‘এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি। আজ তিনটি জায়গায় আমরা অভিযান চালিয়েছি। আমরা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কথা বলেছি। এটি শুক্রবার (আজ) থেকেই ঠিক হয়ে যাবে। এ ছাড়া আমরা অনেক জায়গায় খোঁজ নিয়েছি তারা টিকিট বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি আমরা অভিযান চালাব। এ ছাড়া পুলিশ ও প্রশাসনকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত