করোনাঝুঁকির মধ্যে কাল তিন আসনে ভোট

হাত ধুয়ে ভোট দেবেন ভোট দিয়ে হাত ধোবেন : ইসি

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২০, ০৬:৪৫ এএম

বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেই ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪ আসনের উপনির্বাচন তফসিল অনুযায়ী আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠানের ব্যাপারে অনড় রয়েছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অনির্ধারিত জরুরি সভা শেষে কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, ভোটাররা হাত ধুয়ে ভোট দেবেন। ভোট দিয়ে আবার হাত ধোবেন।

এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে কমিশন ভবনে ওই জরুরি সভা হয়। এদিকে গতকালই করোনাভাইরাসের ঝুঁকির কারণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক সব ধরনের কর্মসূচি স্থগিত করার জন্য ভিডিও কনফারেন্সে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা পাঠানো হয়। করোনাভাইরাসে গতকাল পর্যন্ত দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ ও একজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে সরকারের রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।

ঢাকা-১০-এর সব কেন্দ্রেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে) এবং বাকি দুটি সংসদীয় আসনে ব্যালটে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছে ইসি। সচিব মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘কমিশন এই ভোটের বিষয়ে সুবিধা-অসুবিধা দুটি বিষয়ই বিবেচনা করেছে। সুবিধা বেশি মনে হয়েছে বলেই ভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন এবং যশোর-৬ ও বগুড়া-১ আসনের উপনির্বাচনের বিষয়ে গতকাল কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২১ মার্চ কমিশনের নিয়মিত একটি বৈঠক রয়েছে। সেখানেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

মো. আলমগীর বলেন, ‘সরকার যেহেতু এখনো করোনাকে দুর্যোগ ঘোষণা করেনি, বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি মহামারী আকার ধারণ করেনি এবং আপনাদের (গণমাধ্যম) কথা মতে ভোটার টার্নওভার কম হবে বলে এ নির্বাচনে স্বাস্থ্যঝুঁকি হবে না বলে মনে করছি।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সময় সব ভোটকেন্দ্রে হ্যান্ড সেনিটাইজেশনসহ স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটাররা হাত ধুয়ে ভোট দেবেন। ভোট দিয়ে আবার হাত ধোবেন।’

ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব বলেন, ‘ঢাকা-১০ আসনে নির্বাচন যাতে বন্ধ হয় এ ধরনের কোনো অনুরোধ প্রার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। তারা অনেক শ্রম ও টাকা-পয়সা খরচ করেছেন। এখন যদি নির্বাচন বন্ধ করা হয় তাহলে তারা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। নতুন করে ভোটের তারিখ নির্ধারণ করলে তাদের অনেক টাকার অপচয় হবে। এসব কথা চিন্তা করে ভোটের দিন না পেছানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই ভোট হবে।’

ভোটার কম উপস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যেহেতু ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে উপস্থিতি কম ছিল এবং এরই মধ্যে করোনা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, সেই হিসেবে আমরা মনে করছি ভোটার উপস্থিতি কম হবে। আইন অনুযায়ী কোনো নির্বাচনে যদি একজন ভোটারও ভোটাধিকার প্রয়োগ করে, তাহলে নির্বাচন বৈধ হবে এবং প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করতে হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব আলমগীর বলেন, সদ্য বিদেশফেরত ভোটারদের নির্বাচনে ভোট দিতে নিষেধ করা হয়নি, তবে তাদের ভোটকেন্দ্রে আসতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

ভোটের কারণে যদি কেউ সংক্রমিত হয় কিংবা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যায় তাহলে দায়দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন নেবে কি না, এ প্রশ্নে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি আছে। প্রতিটি বুথের পাশে ব্যানার থাকবে। কী করণীয় ব্যানারে তার দিকনির্দেশনা থাকবে।’ সংবাদ সম্মেলনে ইসির যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান, এস এম আসাদুজ্জামান, জনসংযোগ পরিচালক ইসরাইল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত