প্রয়াত ভারতের কিংবদন্তি ফুটবলার পিকে ব্যানার্জি

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২০, ০৪:০৩ পিএম

বেশ কয়েকদিন আইসিইউতে থাকার পর না ফেরার দেশে চলে গেলেন ভারতের কিংবদন্তি ফুটবলার প্রদীপ কুমার ব্যানার্জি। শুক্রবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাসকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩।

পিকে ব্যানার্জির মৃত্যুতে ভারতের ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার মৃত্যুতে নিভে গেল ভারতীয় ফুটবলের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রটি। শ্বাসকষ্টের সমস্যা, পার্কিনসন, ডিমেনসিয়া, হার্টের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন ভারত ফুটবল দলের সাবেক এই স্ট্রাইকার।

সম্প্রতি বেশ কয়েকবার হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছিলেন পিকে ব্যানার্জি। ডাক্তারদের তৎপরতায় সুস্থ হয়ে ফিরেও গিয়েছিলেন বাড়িতে। কিন্তু এ যাত্রায় আর রক্ষা হল না। কিছুদিন আগে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে কলকাতার বাইপাসের এক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় সাবেক এই ফুটবলার ও কোচকে। গঠন করা হয় মেডিকেল বোর্ড। কিন্তু সবচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন দীর্ঘ ৫০টি বছর ফুটবল খেলার সাথে কাটিয়ে দেওয়া পিকে ব্যানার্জি।

মৃত্যুকালে পিকে ব্যানার্জি শিক্ষাবিদ দুই কন্যা পলা ও পুর্নাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান। তার ছোট ভাই প্রসূন ব্যানার্জি তৃণমূল কংগ্রেসের পার্লামেন্ট সদস্য।

পিকে ব্যানার্জি ১৯৩৬ সালের ২৩ জুন ব্রিটিশ ভারতের উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। পাঁচ ফুট সাড়ে আট ইঞ্চির এই ফুটবলার খেলতেন আক্রমণভাগে। যুব ফুটবলে তার শুরু ১৯৫১ সালে মাত্র পনেরো বছর বয়সে সন্তোষ ট্রফিতে বিহারের হয়ে।

এরপর পেশাদার সিনিয়র ফুটবল খেলতে চলে আসেন কলকাতায়। ১৯৫৪ সালে এরিয়ান এফসি’র হয়ে এক বছর খেলার পর নাম লেখান ইস্টার্ন রেল এফসিতে। ক্লাবটির হয়ে খেলেন ১৯৬৭ পর্যন্ত। সেই একই সময়ে জাতীয় দলের জার্সিতেও দাপিয়ে খেলেন পিকে ব্যানার্জি। দেশের হয়ে ৮৪ ম্যাচে তার ৬৫টি!

১৯ বছর বয়সে ঢাকায় কোয়াড্রাঙ্গুলার টুর্নামেন্টে জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হয় পিকে ব্যানার্জির। এর পর থেকে তিনি দেশের হয়ে খেলেন তিনটি এশিয়ান গেমসে (১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৬৬)।

মেলবোর্ন অলিম্পিক (১৯৫৬) এ ভারতীয় দলে ছিলেন পিকে ব্যানার্জি। ১৯৬০ সালের রোম অলিম্পিকে দেশের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। যেখানে ফ্রান্সের বিপক্ষে দলকে সমতায় ফিরিয়েছিল তার গোল। মারদেকা কাপে ভারতের হয়ে তিনবার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। যেখানে দু'বার রৌপ্য ও একবার ব্রোঞ্জ জিতেছিল ভারত।

টানা চোটের কারণে ১৯৬৭ সালে খেলোয়াড়ী ক্যারিয়ারে দাঁড়ি টানেন পিকে ব্যানার্জি। কিন্তু ফুটবল ছেড়ে থাকতে পারেননি। চলে আসেন কোচিং। তার খেলোয়াড় জীবন থেকে কোচিং জীবন অনেক বেশি সফল। তার হাত ধরে তৈরি হওয়া ফুটবলাররা দেশের ফুটবলে রাজত্ব করেছেন এক সময়।

ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের কোচিং করানোর পাশাপাশি জাতীয় দলও তার কোচিংয়ে সাফল্য পেয়েছে। এর সঙ্গে টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমিরও টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ছিলেন।

১৯৭২ সালে কোচ হিসেবে যাত্রা শুরু। টানা ১৯৮১ পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করার পর সাময়িক একটা বিরতির পর ১৯৮৫ সালে আবার ভারতীয় ফুটবল দলের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। শেষবার জাতীয় দলের কোচ হিসেবে তাকে দেখা যায় ১৯৯৯ সালে।

পিকে ব্যানার্জির অর্জনের ঝুলিতে আছে ছিল অর্জুন পুরস্কার, পদ্মশ্রী, ফিফা অর্ডার অব মেরিটের মতো সম্মাননা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত