ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরা যাত্রীদের হাতে বাধ্যতামূলক ‘কোয়ারেন্টাইন’ সিল দেওয়া হচ্ছে। এতে তারা কত দিন পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন অমোচনীয় কালিতে সেই তারিখও লিখে দেওয়া হচ্ছে। ইমিগ্রেশন কর্র্তৃপক্ষ থেকে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার থেকেই তারা সিল দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। গতকাল শুক্রবারও প্রত্যেক যাত্রীর হাতে সিল দেওয়া হয়েছে। গতকাল বিমানবন্দরে সরেজমিন দেখা গেছে, অবতরণ করা প্রবাসীদের তাপমাত্রা পরীক্ষা করেই এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে ইমিগ্রেশন কর্র্তৃপক্ষ। বিদেশফেরত যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে যাদের করোনা আক্রান্ত সন্দেহ করা হচ্ছে তাদের সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কোয়ারেন্টাইন করা হচ্ছে আর যাদের তাপমাত্রা সন্দেহজনক মনে হচ্ছে না তাদের হাতে সিল মেরে নিজ নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টাইন অবস্থায় থাকতে বলা হচ্ছে।
ইমিগ্রেশন পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বরত কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা বিদেশফেরত যাত্রীদের হাতে অমোচনীয় কালিতে সিল দিচ্ছি, যাদের জন্য হোম কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক। অন্য দেশেও এ ব্যবস্থা চালু আছে। কোন তারিখ পর্যন্ত ওই ব্যক্তি সবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে তারও উল্লেখ রয়েছে। এই সিলের ফলে যে ব্যক্তি নিয়ম ভঙ্গ করবেন তাকে কোয়ারেন্টাইনে ফেরত পাঠানো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে সহজ হবে ।’ বিদেশফেরত কয়েক যাত্রীও গতকাল হাতে সিল দেওয়া ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন।
এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ, বিস্তৃতির সম্ভাব্যতা ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেনাবাহিনীকে দুটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) । বিমানবন্দর সংলগ্ন হজ ক্যাম্প ও উত্তরার দিয়াবাড়ী (সেক্টর-১৮) সংলগ্ন রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এ দুটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।
এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদেশফেরত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্র্তৃক নির্বাচিত ব্যক্তিদের বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। হস্তান্তরের পর সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসব যাত্রীকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে স্থানান্তর, ডিজিটাল ডাটা এন্ট্রি কার্যক্রম সম্পন্ন, কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে থাকাকালীন সময়ে খাবার, বাসস্থান, চিকিৎসা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সেবা দেওয়া হচ্ছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীকে সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়, সংস্থা, অধিদপ্তর বা বাহিনী প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে।
