রোনাল্ড কুমানের মনে বার্সেলোনার ডাগআউটে দাঁড়ানোর স্বপ্ন। কয়েক মাস আগে প্রস্তাবও পেয়েছিলেন, কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। স্বপ্ন এখনো আছে। ভবিষ্যতে কোনো একদিন সেটি পূরণ হওয়ার প্রত্যাশাও করেন সাবেক এই মিডফিল্ডার।
মূলত ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় দলের বাজে পারফরম্যান্স ও এবারের লা লিগায় প্রতিপক্ষের মাঠে আশানুরূপ সাফল্য না মেলায় গত জানুয়ারিতে ওই সময়ের কোচ এরনেস্তো ভালভার্দেকে বরখাস্ত করে বার্সেলোনা। তার উত্তরসূরি হতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে সম্প্রতি মার্কাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান কুমান। কিন্তু নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ২০১৮ সাল থেকে ডাচদের প্রধান কোচের দায়িত্বে থাকা অভিজ্ঞ এই কোচ। ‘তারা আমাকে ফোন দিয়েছিল। কিন্তু আমার জাতীয় দলের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে আমি না বলেছিলাম। দুই বছর পর এখান থেকে বিদায় নেওয়ার সুযোগ আছে আমার। বাস্তবিক অর্থে আমার চুক্তির দুই বছর বাকি আছে। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের পর সময় পাব পর্যালোচনা করার। প্রতিটি টুর্নামেন্টের জন্য দুই বছর। একটা টুর্নামেন্টের তিন মাস আগে আমি নেদারল্যান্ডসকে ছাড়তে পারি না।’
ওই সময় বার্সেলোনার দায়িত্ব নেওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল কি-না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে কুমান বলেন, ‘না। আমি মনে করি না খারাপ সময় ছিল। আসলে আমার নেদারল্যান্ডসকে নিয়ে কিছু লক্ষ্য আছে। বার্সেলোনা সবসময় বড় কিছু জিততে পারে। তাদের অনেক ভালো ভালো খেলোয়াড় আছে, তারা সেরা খেলোয়াড় দলে টানতে পারে... আমি যদি বেকার
থাকতাম, তাহলে অবশ্যই সবাই বার্সেলোনাকে পছন্দ করে।’
‘তারা কী অবস্থায় আছে, এটা কোনো বিষয় নয়। খেলোয়াড় হিসেবে বার্সেলোনায় আমি সেরা সময় কাটিয়েছি এবং শহরটির প্রতি আমার অনেক ভালোবাসা আছে। আশা করি একদিন বার্সেলোনার কোচ হতে পারব।’
এবারের ইউরো হওয়ার কথা ছিল জুন-জুলাইয়ে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এক বছরের জন্য প্রতিযোগিতাটি পিছিয়ে গেছে। নতুন সূচি অনুযায়ী শুরু হওয়ার কথা ২০২১ সালের জুনে। এরপরের বছরই হবে কাতার বিশ্বকাপ। ফলে দেখা যাচ্ছে, কুমানের নিজেকে পর্যালোচনা করার ও প্রতি টুর্নামেন্টের জন্য দুই বছরের প্রস্তুতির সব পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে বসেছে।
গত দুইবারের লা লিগা চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা এবারও এখন পর্যন্ত লিগ টেবিলের শীর্ষে আছে। এগিয়ে চলেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও। তবে তাদের পারফরম্যান্সে আছে ধারাবাহিকতার অভাব। অধিকাংশ ম্যাচে তাদের চিরচেনা ধরন ‘বলের দখল রেখে খেলা’ ঠিক থাকলেও যথেষ্ট গোলের দেখা পাচ্ছে না তারা। তাদের দলে শক্তির ঘাটতি আছে বলেও অনেকের ধারণা। কুমানও তা মনে করেন। বিশেষ করে দলটিতে গতিময় একজন ফুটবলারের খুব প্রয়োজন বলে বিশ্বাস ৫৬ বছর বয়সী এই কোচের।
বার্সার সঙ্গে যোগাযোগটা অনেক পুরনো কুমানের। টোটাল ফুটবলের জনক ইয়োহান ক্রুইফের ‘স্বপ্নের দল’-এ যোগ দেন তিনি ১৯৮৯ সালে, যে দলে ছিলেন বুলগেরিয়ার রিস্টো স্টোয়িচকভ, ব্রাজিলের রোমারিও, স্পেনের পেপ গার্দিওলা ও ডেনমার্কের মাইকেল লাউড্রাপ। ১৯৯১ থেকে টানা চার বছর কাতালান ক্লাবকে লা লিগা শিরোপা এনে দিতে মুখ্য ভূমিকা রাখেন এই ডিফেন্ডার। ১৯৯২ সালে তার গোলেই ইউরোপিয়ান কাপ (বর্তমান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) জেতে বার্সা। ৬ বছর বার্সার হয়ে ১৯২ ম্যাচে ৬৭ গোল করেছিলেন কুমান। ১৯৯৭-এ কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করার পর ১৯৯৮ থেকে ২০০০ পর্যন্ত বার্সার সহকারী কোচ ছিলেন তিনি।
