ঢাকা-১০ আসনে গতকাল শনিবার ছিল উপনির্বাচন। দেশজুড়ে করোনা আতঙ্কের ভেতরেও নির্বাচন কমিশনের একগুঁয়েমি সিদ্ধান্তে ভোট আয়োজন সম্পন্ন হলেও ওই আসনের ভোটাররাও যেন একগুঁয়েমি আচরণ করেছেন সব প্রার্থীর সঙ্গে। নির্বাচনে দুপুর পর্যন্ত কেন্দ্রগুলোতে ভোটের চিত্র ছিল অতি শোচনীয়। বেলা বাড়লেও ভোটার বাড়ছিল না। সরেজমিনে দেখা গেছে, কোনো কোনো কেন্দ্রে দুপুর পর্যন্ত ৫-১০টি করে ভোট পড়েছে মাত্র। এমনকি কোনো কোনো কেন্দ্রে তখন পর্যন্ত একটি ভোটও পড়েনি। অথচ এই সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ২৭৫। আর ভোট কেন্দ্র ছিল ১১৭টি। ভোটের এই করুণ চিত্র চোখে পড়ে
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর নেতাদের মধ্যে। লজ্জাকর পরিস্থিতির হাত থেকে বাঁচার জন্য তারা ঢাকা-১০ আসনের ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের সব নেতাকে ফোন দেওয়া শুরু করেন। ওয়ার্ড কমিশনারদের কাছেও কেন্দ্রীয় নেতাদের মোবাইল ফোন থেকে কল যাওয়া শুরু করে। কিন্তু সংগঠনের স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতা কেন্দ্রীয় নেতাদের ওই কল ধরেননি। ঢাকা-১০ আসনের নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা এ তথ্য জানিয়ে দেশ রূপান্তরকে আরও বলেন, কোনো কোনো নেতা আছেন যারা ফোনই ধরেননি। আর যারা ফোন ধরেছেন তারা চেষ্টা করেও ভোটার জোগাড় করতে পারেননি। ভোটাররা শোনেননি নেতাদের কথা।
আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ভোটাররাই ভোটকেন্দ্রে আসেননি ভোট দিতে। ভোটের দিন একপর্যায়ে মনে হয়েছে হাজার পাঁচেক ভোটও হবে না হয়তো। তবুও এই ভোট অনেক বলে মনে করেন কেন্দ্রীয় নেতারা।’
সম্পাদকমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, ‘দুপুরের পরে আমাদের কাজ ছিল প্রত্যেক ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ নেতাদের ফোন করা। আমরা সেটা করেছিও, তবুও ভোটার আনা যায়নি কেন্দ্রে।’
আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর আরেক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে তাতে নৌকার প্রার্থীর জন্য ১৫ হাজার ৯৫৫ ভোটও অনেক বেশি মনে করি আমরা।’
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওয়ার্ড নেতাদের ভোটকেন্দ্রে ভোটার আনাতে অনেক রকম প্রলোভনও দেখানো হয়েছে, কিন্তু তাতে কাজ দেয়নি।’
নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এক নেতা বলেন, ‘ভোট সম্পন্ন করার দায়িত্ব নিয়ে মনে হয়েছে বিপদে পড়েছি। কারও সহযোগিতা পাইনি। ভোটের দিন পর্যন্ত সবাই যার যার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিল। একপর্যায়ে নিজেকে অসহায়ের মতো মনে হচ্ছিল।’
