ছেলেসহ মালদিনি ও দিবালা আক্রান্ত

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২০, ১১:২৬ পিএম

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক সভাপতি লরেঞ্জো সাঞ্জ। শরীরে কভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণ হওয়ার পর থেকে ৭৬ বছর বয়সী সাঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি হচ্ছেন বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন। কদিন আগে মালাগার ক্লাব আতলেতিকো পোরতাদা আলতার ২১ বছর বয়সী কোচ ফ্রানসিসকো গার্সিয়া মৃত্যুবরণ করেন। এদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ইতালির ফুটবল কিংবদন্তি পাওলো মালদিনি, তার ১৮ বছরের ছেলে দানিয়েল মালদিনি এবং জুভেন্তাসের আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড পাওলো দিবালা। এছাড়া গতকাল সন্ধ্যায় সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা মারাউন ফেইলাইনি এ ভাইরাসে পজিটিভ হয়েছেন।

আক্রান্তের সংস্পর্শে আক্রান্ত মালদিনি

সর্বকালের সেরা ডিফেন্ডারদের একজন মালদিনি এসি মিলানের টেকনিক্যাল ডিরেক্টার এখন। ক্লাবের বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘করোনায় আক্রান্ত একজনের সংস্পর্শে আসার বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন পাওলো মালদিনি। এরপর এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কিছু উপসর্গ তার মধ্যে দেখা যায়। শুক্রবার তার পরীক্ষা করা হয় এবং রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তার ছেলে দানিয়েলের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। তবে দুজনই ভালো আছে। নিয়ম অনুযায়ী এরই মধ্যে তারা বাইরের কারও সংস্পর্শ ছাড়া বাড়িতে দুই সপ্তাহ কাটিয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় আরও সময় নিজেদের কোয়ারেন্টাইনে রাখবেন তারা।’

প্রায় দেড় যুগ ইতালি জাতীয় দলের হয়ে খেলা মালদিনি ১৯৯০ থেকে খেলেন টানা ৪ বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ২৩ ম্যাচ খেলা মালদিনি ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে ২২১৬ মিনিট মাঠে কাটিয়েছেন যা একটি রেকর্ড। সারা জীবন শুধু মিলানের হয়েই ক্লাব ফুটবল খেলেছেন। রেকর্ড ৬৪৭ সিরি’আ ম্যাচে খেলেছেন মালদিনি।

এখন সেই ক্লাবের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর। মিলানের জার্সিতে ছেলে দানিয়েলের অভিষেক হয়েছে এ মৌসুমেই। এসি মিলানের জার্সিতে।

নিজেই জানালেন দিবালা

জুভেন্তাসের দানিয়েল রুগিনির পর ব্লেস মাতুইদি এর আগে আক্রান্ত হন করোনায়। এরপর থেকেই স্বেচ্ছায় দিবালা নিজেকে ঘরেবন্দি রাখায় শঙ্কা ছিল তিনিও ভাইরাসে আক্রান্ত। শনিবার ইন্সটাগ্রামে জানালেন আক্রান্তের কথা, ‘সবাইকে জানাতে চাই যে মাত্রই কভিড-১৯ পরীক্ষার ফল হাতে পেয়েছি। আমি ও ওরিয়ানা (বান্ধবী) দুজনই পজিটিভ। সৌভাগ্যবশত, আমরা দুজনই শারীরিকভাবে একেবারে ঠিকঠাক আছি।’ জুভেন্তাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাওলো দিবালা মেডিকেল টেস্ট করিয়েছেন, তার শরীরে কভিড-১৯ পাওয়া গেছে। ১১ মার্চ বুধবার থেকেই তিনি বাড়িতে স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইনে আছেন। স্বাভাবিক নিয়ম মেনেই তার শারীরিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। তিনি সুস্থ আছেন, কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না তার শরীরে।

রিয়ালের অন্যতম সফল প্রেসিডেন্টের মৃত্যু

রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে বাবার মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেছেন ছেলে লরেঞ্জো সাঞ্জ দুরান, ‘আমার বাবার এভাবে চলে যাওয়ার কথা ছিল না। আমার দেখা অন্যতম দয়ালু, সাহসী ও কঠোর পরিশ্রম করা মানুষটি চলে গেলেন। পরিবার এবং রিয়াল মাদ্রিদ ছিল তার ভালোবাসা।’ নিজেদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া শোকবার্তায় রিয়াল কর্র্তৃপক্ষ বলেছে, ‘১৯৯৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ক্লাবের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করা লরেঞ্জো সাঞ্জের মৃত্যুতে গোটা রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাব, সভাপতি ও বোর্ড পরিচালকরা গভীর দুঃখ প্রকাশ করছে।’ পাঁচ বছর স্পেনের ইতিহাসের সফলতম ক্লাব রিয়ালের সভাপতি ছিলেন সাঞ্জ। সে সময় দুবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জেতে লস ব্লাঙ্কোসরা। ৩২ বছরের খরা কাটিয়ে ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে ইউরোপের সেরা হওয়ার পর ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমেও চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত