দাবায় এলবোশেক নিয়ে বিপত্তি

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২০, ১১:২৭ পিএম

হ্যান্ডশেক নয় এলবোবাম্পস, কাগজ-কলম-ঘড়ির পাশে জায়গা নিয়েছে হ্যান্ড সেনিটাইজার। দাবা খেলায় এখন চলছে এই নিয়ম, রাশিয়ার একেতারিনবার্গে চলছে ক্যান্ডিডেট দাবা টুর্নামেন্ট। সম্ভবত এটাই বর্তমানে একটা বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট যা সূচি অনুযায়ী হচ্ছে। শহরের হায়াত হোটেলে চলছে এই টুর্নামেন্ট। একই হোটেল ব্যবহৃত হচ্ছে দাবা খেলোয়াড়দের থাকার জায়গা এবং ভেন্যু হিসেবে। টুর্নামেন্ট চালুর মাত্র সপ্তাহখানেক আগে করোনাভাইরাসের কারণে নতুন কিছু নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে। টুর্নামেন্টে খেলা আট খেলোয়াড়-ই নিয়মগুলো মানছেন।

তবে নতুন নিয়ম নিয়ে দ্বিমত তুলেছেন আট খেলোয়াড়ের কেউ কেউ। যেমন,এলবোবাম্পসকে শিষ্টাচার হিসেবে মানছেন না নেদারল্যান্ডসের গ্র্যান্ডমাস্টার আনিস গিরি। ২৫ বছর বয়সী এই দাবাড়– বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে ১১তম। তার কাছে শুভেচ্ছা বিনিময়ের এই রীতি অসৌজন্যমূলক, ‘এটা আমার কাছে অসৌজন্যমূলক। কিছুটা ইতস্তত লাগে। কারণ কেউ কেউ হ্যান্ডশেক করতে আসছে কিন্তু আমাকে কনুই (এলবো) এগিয়ে দিতে হচ্ছে। এতে বিপরীতে যে থাকছেন তাকে অসম্মান করা হয়। এর চেয়ে বরং অন্য কিছু ভালো ছিল। যেমন জাপানিদের মতো সামনে ঝুঁকে অন্যকে সম্মান দেওয়া। সেটা হয়তো ভালো ছিল। এই কনুইয়ের ব্যাপারটা আমার কাছে একদমই ভালো লাগেনি। কারণ দেখা গেল অপরজন মেলানোর আগেই আপনি নিজের কনুই ফিরিয়ে আনছেন। এতে অপরজনকে তো অসম্মানই করা হলো।’

গিরির কাছে এলবোবাম্পস খারাপ লাগারই কথা। কারণ প্রথম রাউন্ডে তার প্রতিপক্ষ ইয়ান নেপোমনিয়াচি তার সঙ্গে মাথা ঠুকে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। পরে সাবেক বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়ন ও লিজেন্ড অ্যানাটোলি কারপভ তার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করেন। গিরি ওই সময় হ্যান্ডশেক করলেও টেবিলে রাখা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করে নেন। দুটো ঘটনাই গিরিকে অপ্রস্তুত করেছে।

বিশ্বের একমাত্র আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হিসেবে ক্যান্ডিডেট দাবা প্রতিযোগিতাটি গত ১৭ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে। এই টুর্নামেন্টে ৫ লাখ ইউরোর প্রাইজমানির জন্য লড়ছেন প্রতিযোগীরা। বছরের শেষদিকে বর্তমান বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়ন ম্যাগনাস কার্লসেনকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবেন এই টুর্নামেন্টের বিজয়ী। তবে আতঙ্কের বিষয় এতদিন করোনাভাইরাস পজিটিভ মুক্ত থাকলেও টুর্নামেন্টের শুরুর দিনেই একেতারিনবার্গে প্রথম কোরানাভাইরাস রোগী পাওয়া গেছে। এই সময়ে আয়োজক কর্র্তৃপক্ষ রাশিয়া সরকারের নির্দেশে খেলাচলাকালীন ভেন্যুতে ৫০ জনের বেশি না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে ভেন্যুতে ৭০ জনের মতো সংবাদিক থাকার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো সাংবাদিক গতকাল থেকে থাকছেন না। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত