করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪,৪৩৩

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২০, ০১:৩৪ এএম

বিশ্বের ১৮৮টি দেশ ও অঞ্চলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৩ লাখ ২৯ হাজার ৬০০ জন। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৪ হাজার ৪৩৩ জনের। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৬ হাজার ৭০০ জন। সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা চীনে। সেখানে মোট ৮১ হাজার ৫৪ জন ব্যক্তি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৩২৬১ জনের। তবে মৃতের হিসাবে চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে ইতালি। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ৪৭৬, আর আক্রান্ত হয়েছেন ৫৯ হাজার ১৩৮ জন।

ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত শনিবার একদিনে ইতালিতে মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হয়। ওইদিন দেশটিতে ৭৯৩ জনের মৃত্যু হয়। রবিবার নতুন করে মারা যায় ৬৫১ জন।

ইতালির পরে সবচেয়ে উপদ্রুত হয়ে উঠছে ইউরোপের আরেক দেশ স্পেন। দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যেখানে আগের দিন মৃত্যু হয়েছিল ৩২৪ জনের। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে স্পেনে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৫৬ জনে। স্পেনের  স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, রোববার মৃত্যুর পাশাপাশি বেড়েছে নতুন রোগীও। এখন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৫৭২ জন, যেখানে শনিবার ছিল ২৪ হাজার ৯২৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে দুই হাজার ৫৭৫ জন সুস্থ হয়েছেন। এখনো হাসপাতালের আইসিইউতে আছেন এক হাজার ৭৮৫ জন।

মৃতের হিসাবে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইরান। দেশটিতে ২১ হাজার ৬৩৮ জন আক্রান্তের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৬৮৫ জনের। যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত হয়েছে ৩০ হাজার ৯১ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩৮৮ জনের। এমন পরিস্থিতিতে দেশবাসীদের ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের নেতৃত্ব গঠিত হোয়াইট হাউজ করোনাভাইরাস টাস্কফোর্সের এক কর্মী ওই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর মাইক পেন্স ও তার পরিবারের করোনাভাইরাসের জন্য পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরীক্ষায় তাদের শরীরে ভাইরাস ধরা পড়েনি।

যুক্তরাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী সেখানে এখন মোট করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৭০০ জন। পরীক্ষা করা হয়েছে ৭৩ হাজার মানুষের ওপর। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আর মারা গেছেন ২৮১ জন।

গাজা উপত্যকায় দুই করোনা রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। রবিবার গাজা কর্র্তৃপক্ষের বরাতে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ তথ্য জানিয়েছে। আক্রান্ত দুই ব্যক্তি বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।

এদিকে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সারা দেশে শাটডাউন জারি করেছে অস্ট্রেলিয়া। ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এই ঘোষণা দিয়েছেন। ঘোষণা অনুসারে, সোমবার দুপুর থেকে বার, ক্লাব, জিমনেশিয়াম ও প্রার্থনালয় বন্ধ থাকবে। রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে খোলা থাকলেও শুধু খাবার কেনা যাবে। গতকাল রবিবার অস্ট্রেলীয় মন্ত্রিপরিষদের এক বৈঠক শেষে মরিসন দেশজুড়ে শাটডাউনের ঘোষণা দেন। দেশটিতে গত কয়েক দিনে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। রবিবার পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৩১৫ জনে পৌঁছেছে। মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ২২ মার্চ বিকেল ৫টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছে কুয়েত সরকার। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক দিন ১১ ঘণ্টা কারফিউ চলবে। এ সময়ের মধ্যে কেউ বাড়ির বাইরে যেতে পারবে না বলে জানিয়েছেন কুয়েতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস আল-সালেহ।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮১ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। চীনের বাইরে করোনা ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে ১১ মার্চ পৃথিবীব্যাপী মহামারী ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত