করোনায় আক্রান্ত আরও ৩ জন -আইইডিসিআর

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২০, ০১:৪০ এএম

দেশে নতুন করে আরও তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া আগের আক্রান্তদের মধ্যে আরও দুজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা গতকাল রবিবার এ তথ্য জানান। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব মতে, এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়াল ২৭-এ। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন পাঁচজন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন দুজন। এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালে আইসোলেশনে আছেন ৪০ জন।

রাজধানীর মহাখালীর বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) মিলনায়তনে এদিন করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত ব্রিফিং হয়। এ সময় মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী। তাদের বয়স ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। নতুন আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে দুজন বিদেশ থেকে এসেছেন। আর একজন আগে আক্রান্ত এক রোগীর সংস্পর্শে ছিলেন। তিনজনের মধ্যে একজনের ডায়াবেটিস আছে। তবে তিনজনেরই মৃদু উপসর্গ আছে। তিনি বলেন, নতুন আরও দুজন সুস্থ হয়ে ফিরে গেছেন। সব মিলিয়ে আক্রান্ত ২৭ জনের মধ্যে পাঁচজনের ক্ষেত্রে এখন আর সংক্রমণ নেই। দুজন মারা গেছেন। অর্থাৎ দেশে এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২০।

তিনি জানান, করোনা পরীক্ষার জন্য বর্তমানে ১৩ হাজার কিট আছে। আরও ৩০ হাজার আসবে। ১০০ নতুন ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা হচ্ছে। সারা দেশে আইসোলেশনের জন্য ৪ হাজার ৫১৫টি বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা শহরে প্রস্তুত আছে ১ হাজার ৫০টি। করোনা পরীক্ষার জন্য আরও সাতটি স্থান নির্দিষ্ট করা হচ্ছে।

নমুনা পরীক্ষায় এখন কাউকে ফেরানো হচ্ছে না : করোনা শনাক্তের জন্য নমুনা পরীক্ষায় এখন আর কাউকে ফেরানো হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন আইইডিসিআর পরিচালক। তিনি বলেন, ‘আগে আমরা শুধু বিদেশ থেকে আসাদের ক্ষেত্রে নমুনা পরীক্ষা করেছি। কিন্তু এখন আমরা কাউকে ফিরিয়ে দিচ্ছি না। যাদের মধ্যেই লক্ষণ-উপসর্গ রয়েছে, কেস ডেফিনেশন দেখে স্ট্রংলি মনে হয় সাসপেক্টেড, তাদের নমুনা সংগ্রহ করছি। করোনা আক্রান্ত কি আক্রান্ত নয়, সেটা পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

ডা. ফ্লোরা বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন হাসপাতাল ও বাসা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছি। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৬৫ জনের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করেছি। যেটা আগে তিন বা দুজন ছিল। সুতরাং কেস ডেফিনেশন বড় হওয়ার কারণে নমুনাগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিভিন্ন হাসপাতালে নিউমোনিয়া রোগী ভর্তি হলেই আমরা সেই রোগীর নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করছি। এখন পর্যন্ত আমরা হাসপাতালে ভর্তি ৪০ জন নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর নমুনা পরীক্ষা করেছি। কিন্তু এ পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ পাইনি।’

সামাজিকভাবে সংক্রমণ হচ্ছে কি না এখনো নিশ্চিত নয় : দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সামাজিকভাবে হচ্ছে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয় আইইডিসিআর। তবে এটিকে পরবর্তী পর্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বলেন, ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন (সামাজিকভাবে সংক্রমণ) বলার আগে সময় নিচ্ছি। প্রত্যেক ক্ষেত্রে আক্রান্তের উৎস চিহ্নিত করতে চাইছি। আক্রান্ত ব্যক্তিরা কোথায় গেছেন সেসব জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি। কমিউনিটি ট্রান্সমিশন কি না সেটা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’

ডা. মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন আমাদের জন্য একটা পরবর্তী লেভেল। যতক্ষণ আমরা নিশ্চিত হবো না যে এটা কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা বলব না। আমরা সাফিশিয়েন্ট এভিডেন্স পাওয়ার পর বলব। কারণ এ রিপোর্টটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছেও দিতে হবে। এভিডেন্স ছাড়া আমরা স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে কোনো রিপোর্ট দিতে পারি না। কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বললে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আমাদের জিজ্ঞাসা করবে কী পরিমাণ সার্চ করেছেন। সুতরাং আমাকে নিশ্চিত হতে হবে।

অতি বয়স্করা ঘরে থাকুন : অতি বয়স্ক ব্যক্তি ও যাদের দীর্ঘমেয়াদি রোগ রয়েছে তাদের অত্যাবশ্যক প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হতে ফের আহ্বান জানিয়েছে আইইডিসিআর। ডা. ফ্লোরা বলেন, অতি বয়স্করা ঘরের মধ্যে থাকবেন। প্রয়োজন না হলে বাইরে বের হবেন না। ভিড় এড়িয়ে চলুন এবং অপরিচিত কেউ যদি বাসায় আসে বা বাইরে থেকে কেউ এসেছেন এমন কারও কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন। নিয়মিত সাবান পানি দিয়ে হাত ধোবেন, অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক, মুখ স্পর্শ করবেন না। শুধু কভিড-১৯-এর জন্য ব্যাপারটি প্রযোজ্য নয় বরং শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ রয়েছে তেমন ব্যক্তির সংস্পর্শও এড়িয়ে চলুন। শিষ্টাচার মেনে চলুন, অসুস্থ হলে ঘরে থাকুন। বাইরে যাওয়া যদি অত্যাবশ্যক হয় সে ক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহার করুন, কারও সঙ্গে করমর্দন, কোলাকুলি করা থেকে বিরত থাকুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত