আইসোলেশনে থাকা যুক্তরাজ্যফেরত নারীর মৃত্যু

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২০, ০১:৪৫ এএম

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে আইসোলেশনে থাকা যুক্তরাজ্যফেরত এক নারী (৬১) মারা গেছেন। গত শনিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ওই নারীর সংস্পর্শে আসা তিন স্বজনকে হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে মারা যাওয়া দুজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন সন্দেহে তাদের পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ভারতফেরত ছিলেন।

সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেন, গতকাল রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর মানিক পীর (রহ.) কবরস্থানে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ওই নারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। করোনা সন্দেহভাজন হিসেবে আইইডিসিআরের দেওয়া নির্দেশনা মেনেই তাকে দাফন করা হয়। এ ছাড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ওই নারীর মুখের লালা, রক্তসহ প্রয়োজনীয় নমুনা আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে।

৪ মার্চ যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরা ওই নারী জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। গত শুক্রবার তাকে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি করা হয়। ওই নারীর বাসা নগরীর শামীমাবাদ এলাকায় ও গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলি গ্রামে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেন, ওই নারীর সংস্পর্শে আসা তিন স্বজনকে গতকাল বিকেলে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নগরীর শামীমাবাদে ওই নারীর বাসায় ও জগন্নাথপুরের গ্রামের বাড়িতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদল গিয়ে তার কাছাকাছি আসা আত্মীয়-স্বজনদের হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে খুমেক হাসপাতালের পরিচালক এ টি এম মঞ্জুর মোর্শেদ জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্বাসকষ্ট, সর্দিজ্বর ও কাশি নিয়ে বাগেরহাটের মোংলার এক ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। একই দিন রাতে নড়াইল থেকে শ্বাসকষ্ট, সর্দিজ্বর ও কাশি নিয়ে এক রোগী নগরীর একটি ক্লিনিকে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।

তিনি বলেন, পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় ওই দুজনের শরীরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সন্দেহজনক হওয়ায় তাদের পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত