ট্রাম্পের ডাক্তারিতে নাইজেরিয়া বিপাকে

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২০, ০৬:০০ এএম

করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে সারা বিশ্বে। এই ভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯-এর কোনো প্রতিষেধক বা ওষুধ আবিষ্কৃত না হওয়ায় বিভিন্ন দেশের চিকিৎসকরা রোগটির চিকিৎসায় সর্দি-জ্বরের প্রচলিত ওষুধ ব্যবহার করছেন। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক কেউই বলছেন না প্রচলিত ওষুধগুলো আসলেই কাজ করবে। এর মাঝেই গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নজিরবিহীন ঘোষণা দিয়ে নিজেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের আসনে বসিয়েছেন। তিনি করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য ম্যালেরিয়াবিরোধী ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। গেল বৃহস্পতিবারের ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় হিড়িক পড়ে যায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন সেবনের।  আর এতেই ভয়ানক বিপত্তিতে পড়েছেন দেশটির মানুষজন। তাদের মধ্যে দেখা দেয় বিষক্রিয়া। এ অবস্থায় ওষুধটি সেবনে দেশটির সরকার জারি করেছে সতর্কতা। গত শনিবারও ট্রাম্প নিজের অফিশিয়াল টুইটার পেজে লেখেন, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও অ্যাজিথ্রোমাইসিনের মিশ্রণ চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে

একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের সুযোগ এনে দিয়েছে। আমাদের খাদ্য ও ওষুধ সংস্থা (এফডিএ) পাহাড় সরানোর মতো কাজ করেছে। তাদের ধন্যবাদ।

হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন অ্যাজিথ্রোমাইসিনের সঙ্গে মিলে অনেক ভালো কাজ করবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানাচ্ছে, অতিরিক্ত হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন সেবনের কারণে অন্তত তিনজন রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেশটির লাগোস প্রদেশের ওই ঘটনার পর দেশজুড়েই জারি করা হয়েছে সতর্কতা। 

শুধু তা-ই নয়, ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পরে সুদূর আফ্রিকার ওই দেশটিতে এক লাফে ওষুধগুলোর দাম বেড়ে যায় ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত। সাধারণত হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ২০০ নাইরায় বিক্রি হলেও শনিবারের পরে সেগুলো ৫০০ থেকে ৮০০ নাইরায় দরে বিক্রি হচ্ছে। 

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ট্রাম্প এমন আহ্বান জানালেও ওষুধগুলো এফডিএ অনুমোদন করেনি। হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন হচ্ছে ম্যালেরিয়ার ওষুধ এবং অ্যাজিথ্রোমাইসিন হচ্ছে একটি অ্যান্টিবায়োটিক যা মানবদেহে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে ব্যবহৃত হয়। কয়েক মাস ধরে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরাও বলে এসেছেন, শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করে করোনাভাইরাস নির্মূল করা যাবে না।

নাইজেরিয়ার স্বাস্থ্য কর্র্তৃপক্ষও বলছে, উল্লিখিত ওষুধগুলোর করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে এমন কোনো প্রমাণ তাদের হাতে নেই। 

আফ্রিকার এ দেশটিতে গত রবিবার পর্যন্ত ৩০ জন কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে অবশ্য এক রোগী সিএনএনকে জানিয়েছেন, ক্লোরোকুইন সেবনের পরে তিনি কিছুটা ভালো বোধ করেন। 

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাতে সংবাদমাধ্যমটি বলছে, কোনো ওষুধই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেবন করা উচিত নয়। আর চিকিৎসকদেরও নিশ্চিত না হয়ে কোনো ওষুধ রোগীদের দেওয়া অনুচিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত