করোনা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে ক্ষুব্ধ আ.লীগ নেতারা

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২০, ০৬:২৫ এএম

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি নিয়ে ভীষণ ক্ষুব্ধ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা বলছেন, প্রস্তুতি নিয়ে এ মন্ত্রণালয়ের অবহেলাই আতঙ্ক ও আশঙ্কার ভেতরে ফেলে দিয়েছে সবাইকে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা ফেইসবুকসহ অনলাইনের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের পাশাপাশি কর্মকর্তাদেরও কড়া সমালোচনা করছেন। শুধু তাই নয়, এ পরিস্থিতিতে মন্ত্রীদের ‘লাগামহীন কথাবার্তায়’ ত্যক্ত-বিরক্ত তারা। বর্তমান পরিস্থিতির জন্য আমলাদেরও দায়ী করছেন নেতারা। গত কয়েক দিন ধরে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা

 ফোন করে মন্ত্রীদের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের’ শুধু সমালোচনাই করেননি, ‘রীতিমতো গালমন্দও’ করছেন। ফোনে ওইসব নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এরা আসলে লুটপাট করতে এসেছে, আওয়ামী লীগকে বদনামের ভাগীদার করতে চায় এরা। সম্পাদকমণ্ডলীর দুই সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, এরা দায়িত্বশীল হবে কী করে? এরা তো রাজনীতি করে সংসদ সদস্য হয়নি। তারা বলেন, মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন কয়েকজন আছেন রাজনীতি না করেও আজকে এ অবস্থায় এসেছেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ওই নেতারা বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণলায়সহ সংশ্লিষ্ট অন্য মন্ত্রণালয়গুলো পর্যাপ্ত সময় পেয়েছে প্রস্তুতি নিয়ে রাখার। কিন্তু বিষয়টি অবহেলা করতে গিয়ে এবং আমলে না নেওয়ায় আজকে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশ রূপান্তরকে তারা আরও বলেন, বিশ্বের আক্রান্ত অন্য দেশগুলোর চেয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বাংলাদেশই বেশি পেয়েছে। তারা বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও দায়ী এ অবহেলায়। বৈশ্বিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে এ মন্ত্রণালয়গুলো যৌথভাবে একটি সিদ্ধান্ত নিলে আজ এই পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না দেশের মানুষকে।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমলারাও এ ক্ষেত্রে কম দায়ী নয়।’ তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় যেসব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন তাদের অভিজ্ঞতা নেই। তারপরও মন্ত্রী হিসেবে টিকে থাকায় এদের ভেতরে এক ধরনের ‘ধরাকে সরা জ্ঞান’ করার মতো অবস্থা দেখা দিয়েছে। মন্ত্রীরা মনে করেন, অভিজ্ঞতা না থাকলেও টিকে আছি তো। এটাই তাদের ভেতরে দায়িত্ব অবহেলার মানসিকতা তৈরি করেছে।

গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন এখানে যে কথা সত্য। ঢাকার একটি পত্রিকায় গতকাল (রবিবার) মন্তব্য করেছে। এটাই সত্য যে এই (করোনাভাইরাস) যুদ্ধ আসবে বা এই যুদ্ধ মোকাবিলার প্রস্তুতি পৃথিবীর কোনো দেশেরই ছিল না। আমাদেরও ছিল না। এখানে এখনো আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। অহেতুক গুজব থেকে বিরত থাকতে হবে। সরকারের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার কোনো অভাব নেই। জনগণ করোনাভাইরাস পরীক্ষা করতে পারছে না বলে যে অভিযোগ উঠেছে সে বিষয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কিছু কিছু দুর্বলতা ছিল তা কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে টেস্টের ক্যাপাসিটি বাড়ানোর জন্য সরকার জোরদার চেষ্টা করছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, আজকে দেশে পর্যাপ্ত পরীক্ষাগার-কীট নেই। নেই ডাক্তারদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার সরঞ্জাম (পিপিই)। এগুলো শুধু অবহেলার জন্যই ঘটেছে। তিনি বলেন, আর্থিক সংকট এসবের জন্য দায়ী নয়। সভাপতিমণ্ডলীর ওই সদস্য আরও বলেন, স্বাস্থ্য, বিমান ও পর্যটন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগে থেকেই যৌথ মিটিং করে প্রস্তুতি নিয়ে রাখলে আজকে এ আতঙ্ক তৈরি হতো না। তিনি বলেন, তাদের অবহেলাই আজকের পরিস্থিতির জন্য দায়ী। এ সময় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য বলেন, ‘যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে আমরা কেউ ঝুঁকিমুক্ত নই। আমাদেরও পরিবার-পরিজন সবাই ঝুঁকিতে। তিনি বলেন, ‘এই ভাইরাসের উৎপত্তি আমাদের দেশে নয়, প্রস্তুতি নিতে ঘাটতি ছিল বলেই দুরবস্থায় পড়েছি আমরা। আজকে যে প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে এগুলো আগে থেকেই নিয়ে রাখা হলে আমরা নিরাপদ ছিলাম।’ সভাপতিমণ্ডলীর ওই সদস্য আরও বলেন, প্রবাসীদের দেশে আসার ব্যাপারে কড়া ব্যবস্থা নিতে পারলেই নিরাপদ থাকতে পারতাম আমরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত