কলকারখানা বন্ধ কিন্তু গার্মেন্টস খোলা

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২০, ০৬:২৮ এএম

করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলেও খোলা থাকছে অধিক শ্রমঘন গার্মেন্টস কারখানা। পোশাক কারখানা বন্ধ করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি মালিকদের ওপর ছেড়ে দিয়েছে সরকার। তবে পোশাক খাতের বড় সংগঠন বিজিএমইএ বলেছে, কোনো কারখানা বন্ধের এখতিয়ার তাদের নেই। কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত শুধু সরকার নিতে পারে। এ  খাতের অন্য সংগঠন বিকেএমইএ বলেছে, আপাতত নিটওয়্যারের সব কারখানা চালু থাকবে। কারখানা বন্ধ করা হবে কি না, ২৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের পর সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সংগঠনটি।

গতকাল মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। তখন সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, পোশাক শিল্পের ওপর সাধারণ ছুটি মানার বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। পোশাক কারখানার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন মালিকরা। তবে সরকারি-বেসরকারি অন্যসব কারখানা বন্ধ থাকবে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘করোনা সংক্রামক রোগ। আমরা প্রথম থেকে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি খুব ক্লোজ মনিটরিংয়ে রেখেছি। গার্মেন্টসে আগাগোড়াই নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ। কারখানার মালিকরাও প্রত্যেকটি জায়গায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হাত ধোয়া, গ্লাভস এবং মাস্ক ব্যবহারের কাজটা করে যাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে তারা (গার্মেন্টস মালিকরা) সিদ্ধান্ত নেবেন তারা কী করবেন।’

মুখ্য সচিব আরও বলেন, গার্মেন্টসের আরও প্রয়োজন আছে। গার্মেন্টসে আমরা তৈরি করছি পিপিই (পারসোনাল প্রটেকশন ইক্যুইপমেন্ট) এবং মাস্ক। এগুলো তৈরি করার জন্য গার্মেন্টসের লোকজন আমাদের সহায়তা করছে। আমরা গতকাল চট্টগ্রাম থেকে ১০ হাজার নিয়েছি, আরও ৯০ হাজার পাচ্ছি। এভাবে বিভিন্ন এলাকা থেকে নেওয়া হচ্ছে।’

গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ করার বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিজিএমইএ মনে করে কারখানাগুলো তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেবেন দয়া করে। বিজিএমইএ কারখানা বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে না। শুধু সরকার এ সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

শ্রমিকদের উদ্দেশে এক ভিডিওবার্তায় রুবানা বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ার মতো ঘটনা ঘটলেও শ্রমিকরা সময়মতো বেতন পাবেন। ‘আপনারা আমাদের ওপর ভরসা রাখুন। আমাদের পাশে থাকুন, যখন বেতনের সময় আসবে, তখন আপনারা বেতন পাবেন’Ñ ভিডিও বার্তায় যোগ করেন তিনি।

রুবানা হক বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারী আকারে দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশের পোশাক খাত একটি কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় কাউকে ধৈর্য হারালে হবে না। তিনি বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে, সরকার আমাদের সঙ্গে আছে। বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে এখন বলা দরকার আমাদের যেসব পণ্য প্রস্তুত আছে, সেগুলো তারা যেন ক্রয় করে, না হলে আমরা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ব।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ৬৩ কোটি ৪৮ লাখ তৈরি পোশাকের রপ্তানি অর্ডার বাতিল হয়েছে, যার মূল্য ১৯৮ কোটি ডলার।

এদিকে বিকেএমইএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলভ চৌধুরী জানান, গতকাল সংগঠনটির সভাপতি সেলিম ওসমানের সভাপতিত্বে জরুরি পর্ষদ সভায় আপাতত নিটওয়্যার কারখানাগুলো চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষণে যে দিকনির্দেশনা দেবেন, তার আলোকে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে কারখানা চালু থাকবে, নাকি বন্ধ করা হবে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ২৬ মার্চ সরকারি ছুটি ও পরদিন সাপ্তাহিক ছুটির সময় কারখানার সব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কারখানা চলাকালে করোনাভাইরাস থেকে শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তা কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে করোনা প্রতিরোধে কারখানায় প্রবেশমুখে সবাইকে পূর্ণাঙ্গরূপে জীবাণুনাশক সাবান অথবা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধুয়ে ও শরীরের তাপমাত্রা মেপে কারখানায় প্রবেশ করবে। কারখানার ভেতরে ঘন ঘন সাবানপানি দিয়ে হাত ধোবে। জ¦র, সর্দি-কাশি হলে অতি দ্রুত কারখানা কর্র্তৃপক্ষকে জানাবে। সার্বক্ষণিক মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করবে এবং নাকে-মুখে-চোখে হাত থেকে স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকবে।

করোনাভাইরাসের কারণে কারখানার কী পরিমাণ অর্ডার বাতিল, স্থগিত এবং শিপমেন্ট বাতিল হয়েছে তা ৩১ মার্চের মধ্যে ফ্যাক্টরিগুলো থেকে লিখিতভাবে পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলেও খোলা থাকছে অধিক শ্রমঘন গার্মেন্টস কারখানা। পোশাক কারখানা বন্ধ করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি মালিকদের ওপর ছেড়ে দিয়েছে সরকার। তবে পোশাক খাতের বড় সংগঠন বিজিএমইএ বলেছে, কোনো কারখানা বন্ধের এখতিয়ার তাদের নেই। কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত শুধু সরকার নিতে পারে। এ

 খাতের অন্য সংগঠন বিকেএমইএ বলেছে, আপাতত নিটওয়্যারের সব কারখানা চালু থাকবে। কারখানা বন্ধ করা হবে কি না, ২৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের পর সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সংগঠনটি।

গতকাল মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। তখন সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, পোশাক শিল্পের ওপর সাধারণ ছুটি মানার বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। পোশাক কারখানার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন মালিকরা। তবে সরকারি-বেসরকারি অন্যসব কারখানা বন্ধ থাকবে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘করোনা সংক্রামক রোগ। আমরা প্রথম থেকে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি খুব ক্লোজ মনিটরিংয়ে রেখেছি। গার্মেন্টসে আগাগোড়াই নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ। কারখানার মালিকরাও প্রত্যেকটি জায়গায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হাত ধোয়া, গ্লাভস এবং মাস্ক ব্যবহারের কাজটা করে যাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে তারা (গার্মেন্টস মালিকরা) সিদ্ধান্ত নেবেন তারা কী করবেন।’

মুখ্য সচিব আরও বলেন, গার্মেন্টসের আরও প্রয়োজন আছে। গার্মেন্টসে আমরা তৈরি করছি পিপিই (পারসোনাল প্রটেকশন ইক্যুইপমেন্ট) এবং মাস্ক। এগুলো তৈরি করার জন্য গার্মেন্টসের লোকজন আমাদের সহায়তা করছে। আমরা গতকাল চট্টগ্রাম থেকে ১০ হাজার নিয়েছি, আরও ৯০ হাজার পাচ্ছি। এভাবে বিভিন্ন এলাকা থেকে নেওয়া হচ্ছে।’

গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ করার বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিজিএমইএ মনে করে কারখানাগুলো তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেবেন দয়া করে। বিজিএমইএ কারখানা বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে না। শুধু সরকার এ সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

শ্রমিকদের উদ্দেশে এক ভিডিওবার্তায় রুবানা বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ার মতো ঘটনা ঘটলেও শ্রমিকরা সময়মতো বেতন পাবেন। ‘আপনারা আমাদের ওপর ভরসা রাখুন। আমাদের পাশে থাকুন, যখন বেতনের সময় আসবে, তখন আপনারা বেতন পাবেন’Ñ ভিডিও বার্তায় যোগ করেন তিনি।

রুবানা হক বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারী আকারে দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশের পোশাক খাত একটি কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় কাউকে ধৈর্য হারালে হবে না। তিনি বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে, সরকার আমাদের সঙ্গে আছে। বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে এখন বলা দরকার আমাদের যেসব পণ্য প্রস্তুত আছে, সেগুলো তারা যেন ক্রয় করে, না হলে আমরা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ব।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ৬৩ কোটি ৪৮ লাখ তৈরি পোশাকের রপ্তানি অর্ডার বাতিল হয়েছে, যার মূল্য ১৯৮ কোটি ডলার।

এদিকে বিকেএমইএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলভ চৌধুরী জানান, গতকাল সংগঠনটির সভাপতি সেলিম ওসমানের সভাপতিত্বে জরুরি পর্ষদ সভায় আপাতত নিটওয়্যার কারখানাগুলো চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষণে যে দিকনির্দেশনা দেবেন, তার আলোকে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে কারখানা চালু থাকবে, নাকি বন্ধ করা হবে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ২৬ মার্চ সরকারি ছুটি ও পরদিন সাপ্তাহিক ছুটির সময় কারখানার সব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কারখানা চলাকালে করোনাভাইরাস থেকে শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তা কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে করোনা প্রতিরোধে কারখানায় প্রবেশমুখে সবাইকে পূর্ণাঙ্গরূপে জীবাণুনাশক সাবান অথবা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধুয়ে ও শরীরের তাপমাত্রা মেপে কারখানায় প্রবেশ করবে। কারখানার ভেতরে ঘন ঘন সাবানপানি দিয়ে হাত ধোবে। জ¦র, সর্দি-কাশি হলে অতি দ্রুত কারখানা কর্র্তৃপক্ষকে জানাবে। সার্বক্ষণিক মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করবে এবং নাকে-মুখে-চোখে হাত থেকে স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকবে।

করোনাভাইরাসের কারণে কারখানার কী পরিমাণ অর্ডার বাতিল, স্থগিত এবং শিপমেন্ট বাতিল হয়েছে তা ৩১ মার্চের মধ্যে ফ্যাক্টরিগুলো থেকে লিখিতভাবে পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত