ইউরোপের পর করোনাভাইরাসের পরবর্তী প্রাদুর্ভাব কেন্দ্র হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস সাংবাদিকদের উদ্দেশে এমনটা বলেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
মার্গারেট সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে ৮৫ শতাংশ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ৪০ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে এই ভাইরাস বিস্তারের দ্রুত গতি লক্ষ করা যাচ্ছে। ফলে দেশটি পরবর্তী প্রাদুর্ভাব কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।’ যুক্তরাষ্ট্রে প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বলেও তিনি জানান।
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ৪৬ হাজার মানুষ আক্রান্ত এবং ৫৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ইউরোপের দেশ ইতালিকে অতিক্রম করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা চীনের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য উপকরণের সংকট রয়েছে। সংকট থেকে মুক্তি পেতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি প্যাকেজ অনুমোদনের চেষ্টা করছেন। কিন্তু দেশটির সিনেটে বিলটি পাস হচ্ছে না।
তবে এর মধ্যেই গতকাল ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশের বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশ খুলে দিতে হবে। কারণ এর কারণে সমস্যা হচ্ছে। আমার মতে, বন্ধ রাখলে আরও বড় সমস্যা হবে।’
দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিয়মিত জনসাধারণকে বিচ্ছিন্ন থাকতে নির্দেশনা দিয়ে আসছেন। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে লকডাউন ঘোষণা করা হলেও দেশবাসীর মধ্যে ঘরে বসে থাকার প্রবণতা কম লক্ষ করা যাচ্ছে। এমন অবস্থায় আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
