দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার (৭৪) হঠাৎ মুক্তির ইস্যুতে মুখ খুলছেন না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতা। দলটির সভাপতিমণ্ডলীর ও সম্পাদকমণ্ডলীর অন্তত এক ডজন নেতার সঙ্গে ইস্যুটি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার কথা হলেও সভাপতিমন্ডলীর মাত্র দুজন সদস্য কথা বলেছেন। সম্পাদকমণ্ডলীর অনেকেই বিরক্তিও প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, তারা এখন করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ব্যস্ত।
করোনাভাইরাস নিয়ে দেশজুড়ে আতঙ্কের মাঝে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে জানান, খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনায় মানবিক কারণে সরকার সদয় হয়ে দণ্ডাদেশ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিএনপি নেতারা এতদিন বলে আসছিলেন, সরকারের ইচ্ছায় খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তাই তার মুক্তির দাবি সরকারের কাছেই জানিয়ে আসছিলেন তারা। তবে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বিএনপি নেতাদের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলে আসছিলেন, খালেদার মুক্তি আদালতের বিষয়। এখানে সরকারের কিছু করার নেই। তবে শেষ পর্যন্ত খালেদার মুক্তি হতে যাচ্ছে নির্বাহী আদেশেই।
এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতা বলেন, তারা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে একথা বলেছিলেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশে অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। তাই সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বাস্তবতা ও মানবিকভাবে বিবেচনা করে খালেদা জিয়াকে মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে নাম না প্রকাশের শর্তে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এক মন্ত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় নিয়োজিত ডাক্তারদের পরামর্শে অনেকটা হঠাৎ করেই সরকার মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে নীরবে তার মুক্তির ব্যাপারে জানানো হয়।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজি জাফরউল্যাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশ এখন করোনাভাইরাস আক্রান্ত। সবাই হুমকি ও ঝুঁকিতে আছে। এই মুহূর্তে খালেদার মুক্তির সিদ্ধান্ত ভালো হয়েছে। তাছাড়া খালেদার যে বয়স তাতে উনি ঝুঁকিতে আছেন। এসব বিষয় বিবেচনা করে সরকার মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমার মনে হয়, সরকারের এ সিদ্ধান্ত সঠিক হয়েছে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা বলে আসছিলেন খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে সরকারের কোনো কিছু করার নেই। তাহলে নির্বাহী আদেশেই কেন তাকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটাও কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ায়ই হয়েছে। খালেদার পরিবারের সদস্যরা তো রাষ্ট্রপতির কাছে আপিল করেছেন। তারপর মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে আইন অনুসরণ করেছে।
সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ফারুখ খান বলেন, ‘আমরা আদালতের কথা বলেছি- একটি স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে। এখন করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া খালেদা জিয়ার বয়সের কথা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এই মুহূর্তে। তার বয়স বিপজ্জনক। এই বয়সে এ ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হলে খালেদার জীবন বাঁচানো কঠিন হবে। তাই তাকে বাসাবাড়িতে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে সরকার। সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার সব সিদ্ধান্তই বাস্তবতার নিরিখে। তিনি বলেন, বাস্তবতা ও মানবিকভাবে সরকার ও প্রধানমন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। আমি মনে করি সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খালেদার মুক্তির পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্য আর কোনো কারণ নেই। দলের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে ফারুক খান বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানতাম না। দলের আর কেউ জানত বলেও মনে হয় না।’
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘খালেদার মুক্তির বিষয়ে নো কমেন্টস।’ সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘খালেদার মুক্তির ব্যাপারে কথা বলার কোনো আগ্রহ নেই। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় কাজ করছি।’ দলের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, ‘এ ব্যাপারে কিছুই জানি না।’
