করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ১০ দিনের সাধারণ ছুটির মধ্যে গ্রাম ও কোনো স্থানে বেড়াতে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। একইসঙ্গে ১ মার্চের পর দেশে আসা প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টাইনের শর্ত মেনে কাছাকাছি থানায় সব ধরনের তথ্য দিতে বলা হয়েছে। এর ব্যত্যয় হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাসপোর্ট রহিতসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরের পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সব প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণার পরপরই বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে গ্রামমুখী মানুষের ভিড় শুরু হয়েছে। করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য সরকার ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সব সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতে ছুটি ঘোষণা করেছে। এই ১০ দিনের ছুটিতে অনেকেই হয়তো সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য না বুঝে বা সচেতনতার অভাবে অথবা অতি উৎসাহের কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ছুটছেন। এতে দেশব্যাপী করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি যেতে নিষেধ করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. সোহেল রানা বলেন, ‘এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষ ঢাকা ছাড়লে শুধু সরকারের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে না, করোনা মহামারী যে হারে ছড়াচ্ছিল, তা আরও ভয়াবহরূপে ছড়াবে। কারণ জনবহুল এলাকা, গণসমাগমস্থল ও গণপরিবহন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযোগী ক্ষেত্র। তাই বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সবাই গণপরিবহন (বাস, ট্রেন, লেগুনা, লঞ্চ, ফেরি, অটোরিকশা, সিএনজি ইত্যাদি) ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।’
থানায় প্রবাসীরা তথ্য না দিলে পাসপোর্ট রহিত : পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে বাংলাদেশ পুলিশের সব ইউনিট সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। সময়ে সময়ে সরকার যে নির্দেশনা দিচ্ছে, নিষ্ঠার সঙ্গে তা পালন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সরকারের নির্দেশে প্রবাসীরা হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন কিনা তা নিশ্চিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে এবং হচ্ছে। আশঙ্কার সঙ্গে লক্ষ করা গেছে, উল্লিখিত সময়ের মধ্যে দেশে ফেরা বেশিরভাগ প্রবাসীই তাদের পাসপোর্টে উল্লিখিত ঠিকানায় অবস্থান করছেন না। তাদের অনেকেই সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে অযথা ঘোরাফেরা করছেন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের নিজেদের এবং সাধারণ জনগণের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ১ মার্চ থেকে এ যাবৎ বিদেশফেরত সব নাগরিককে বর্তমানে অবস্থানরত কাছাকাছি থানায় যোগাযোগ করে সব ধরনের তথ্য দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন-২০১৮, বাংলাদেশ দণ্ডবিধি এবং প্রযোজ্য অন্যান্য আইনের উপযুক্ত ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে পাসপোর্ট রহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রবাসীদের পক্ষে অন্য কেউ থানায় যোগাযোগ করে তার অবস্থান, ঠিকানাসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য জানাতে পারবেন বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
