করোনাভাইরাস

চট্টগ্রামে এখনো পৌঁছেনি পরীক্ষার কিট

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২০, ০১:০৪ এএম

চট্টগ্রামে কিট এসে পৌঁছালে সম্ভাব্য করোনা আক্রান্ত রোগীদের পরীক্ষা শুরু হবে সেজন্য কয়েকদিন তিন সদস্যের একটি দল প্রশিক্ষণ নিতে যায় ঢাকায়। প্রশিক্ষণ নিয়ে এসব কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে চট্টগ্রামে ফিরেছেন, তবে আসেনি করোনা শনাক্তকরণের কিট। এ পরিস্থিতিতে গতকাল মঙ্গলবার পাশর্^বর্তী কক্সবাজারে এক নারীর করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় আতঙ্কিত বন্দরনগরীর বাসিন্দারা। দুশ্চিন্তায় রয়েছেন নগরবাসীর বিদেশফেরত স্বজন ও বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকরাও। আর করোনা শনাক্তকরণের কিট কবে নাগাদ এসে পৌঁছাতে পারে তাও সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না কেউ। এমনকি এ নিয়ে দেশ রূপান্তরের প্রশ্নের জবাবে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা।

গত ১৯ মার্চ নগরীর সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত করোনা প্রতিরোধ ও মোকাবিলা সংক্রান্ত বিভাগীয় কমিটির সভায় জানানো হয়, পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্তের কিট আসছে। চট্টগ্রাম বিভাগে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হলে ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) রাখার কথা রয়েছে। আর প্রতিষ্ঠানটিতে এই সংক্রান্ত সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। তবে ওই ঘোষণার ছয়দিন পরও গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত সেখানে করোনা সংক্রমণ নির্ণয় শুরু হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বিআইটিআইডি’র মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের একজন চিকিৎসক ও দুজন টেকনিশিয়ান প্রশিক্ষণ নিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন। প্রশিক্ষণ শেষে তারা ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম ফিরলেও এই ভাইরাস শনাক্ত করার কিট পৌঁছায়নি। কিট কবে নাগাদ আসতে পারে তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রামে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কিট আসার কথা থাকলেও তা কেন এখনো আসেনি জানতে চাইলে বিআইটিআইডি’র পরিচালক ডা. এম এ হাসান চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনার পরীক্ষার জন্য ঢাকা থেকে এখনো কিট পাঠানো হয়নি। আমাদের তিন সদস্যের দল প্রশিক্ষণ নিয়ে ফিরেছে। দুই-এক দিনের মধ্যে কিট আসতে পারে।’

অন্যদিকে একই প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘বুধবার ঢাকা থেকে টিম আসবে বিআইটিআইডিতে তাদের সক্ষমতা দেখার জন্য। সন্তোষজনক হলে কিটস দেবে।’

কিট না থাকার ফলে করোনা লক্ষণ আছে এমন রোগীদের নমুনা ঢাকায় পাঠানোর ক্ষেত্রে কী ধরনের সংকট কাজ করছে তা জানতে বিআইটিআইডির দায়িত্বরত চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক মামুনুর রশিদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি, খুদে বার্তারও প্রতিউত্তর দেননি।

এদিকে চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসের পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ সর্দি-কাশি নিয়ে আসা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বহির্বিভাগের এক চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের অনেক রোগী দেখতে হয়। তাদের সর্দি-কাশি যেমন থাকে, তেমনি অন্য রোগও থাকে। কিট এলে অন্তত রোগীগুলো শনাক্ত হতো। এতে সবাই উপকৃত হতো।’

প্রবাসী অধ্যুষিত চট্টগ্রামে বিদেশফেরতদের সবাই হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকায় এমনিতেই শঙ্কা রয়েছে। তার ওপর চট্টগ্রামে এখনো করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিট না আসায় জনমনে শঙ্কা আরও বাড়ছে। যারা হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন কিংবা হাসপাতালে সর্দি-কাশির যেসব রোগীকে সন্দেহ করা হচ্ছে তাদের শনাক্তকরণ করতে হলে নমুনা পাঠাতে হয় বিআইটিআইডির মাধ্যমে ঢাকায়। তাই করোনা পরীক্ষার সময়সাপেক্ষ এই প্রক্রিয়ার সমাধান চান নগরবাসী।

কলেজ শিক্ষক কামাল উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কিটস এলে যেসব রোগীর করোনার লক্ষণ রয়েছে তাদের বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যেত। এখন তো এসব রোগী বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে, পাশাপাশি শনাক্ত না হওয়ায় অজান্তে পরিবার-স্বজনদের সংক্রমিত করছে।’

নগরীর ব্রিকফিল্ড রোডের বাসিন্দা দীপঙ্কর আচার্য বলেন, ‘পরিবার নিয়ে ভয়ে আছি। ৪৮ ঘণ্টায় কিট আসছে এটা ঘোষণা হয়ে থাকল, কিন্তু কিট তো আসেনি শুনলাম। রোগ নির্ণয় না হলে শনাক্ত হবে কীভাবে?’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত