নির্দেশ না মেনে বিভিন্ন এনজিওর কিস্তি আদায়

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২০, ০১:১১ এএম

করোনাভাইরাসের কারণে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) ঋণের টাকা আদায় বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা মানছেন না এনজিওকর্মীরা। তারা বলছেন, স্থানীয় প্রশাসন থেকে নির্দেশনা দেওয়া হলেও তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এনজিওগুলোর ঋণের টাকা আদায় বন্ধের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত  নির্দেশনা গত সোমবার রাতে প্রকাশ করা হয়। তবে গতকাল মঙ্গলবার তা অমান্য করে বিভিন্ন এলাকায় কিস্তির টাকা আদায় করেছেন এনজিওকর্মীরা। আদায়কারী কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের অফিস থেকে কোনো নির্দেশনা না দেওয়ায় তারা কিস্তির টাকা সংগ্রহ করছেন।

এ ব্যাপরে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা এবং নিম্নআয়ের মানুষের আয় ও কাজের পরিধি কমে যাওয়ায় গাইবান্ধার সাত উপজেলায় সব এনজিওর ঋণের কিস্তির টাকা আদায় সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধ না করে, সরকারি গণবিজ্ঞপ্তির নির্দেশ অমান্য করে এনজিওকর্মীদের চাপ প্রয়োগ করে কিস্তি আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত সোমবার সাটুরিয়ার ইউএনওর কার্যালয়ে প্রায় শতাধিক এনজিওর প্রতিনিনিদের নিয়ে এক সভায় কিস্তি না তোলার নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা কিস্তি আদায় বন্ধ করেনি।

উপজেলার ধুল্লা গ্রামে আশার কামিনী সমিতি নামে ৩০ জনের একটি সমিতি রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এক এনজিওকর্মী যান কিস্তি আদায় করতে। সমিতির সদস্যরা কিস্তি না দেওয়ার কথা বললে তাদের পুলিশ দিয়ে ধরে নেওয়ার হুমকি দেন ওই কর্মী। একপর্যায়ে সমিতির সদস্যরা টাকা ধার করে কিস্তি পরিশোধ করতে বাধ্য হন।

সাটুরিয়া আশা ব্রাঞ্চের ম্যানেজার স্বপন বলেন, সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের গণবিজ্ঞপি পাওয়ার পর থেকে আশা ব্রাঞ্চের সব কিস্তি আদায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সোমবার থেকে। কিন্তু কেন কিস্তি আনতে যাওয়া হয়েছে তা আমার জানা নেই।

সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম বলেন, করোনাভাইরাস আতঙ্কের কারণে সোমবার থেকেই সাটুরিয়ার সব এনজিওর কিস্তি আদায় কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোনো এনজিও যদি সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কিস্তি আদায় করে সেই এনজিওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে (এনজিও) কিস্তি আদায় কার্যক্রম বন্ধ রাখতে সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। তবে এই নির্দেশনা অমান্য করে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলিতে বিভিন্ন এনজিও কিস্তি আদায় কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন ঋণগ্রহীতা খেটে খাওয়া মানুষ। 

হিলিতে আশা, গণউন্নয়ন কেন্দ্র, জাকস, ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংকসহ ১৫টির মতো বিভিন্ন এনজিও ক্ষুদ্রঋণের কার্যক্রম চালায়। এসব এনজিওর কর্মীরা সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিস্তি আদায় করছেন এমন অভিযোগ পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার গণউন্নয়ন কেন্দ্র ও আশা অফিসে গেলে সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান অফিস ব্যবস্থাপক ও অন্য কর্মীরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত