অর্থনীতিতে বড় ক্ষতির আশঙ্কা অর্থমন্ত্রীর

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২০, ০১:২৬ এএম

করোনাভাইরাস বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় অর্থনীতিতে বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় রপ্তানি কমার আশঙ্কা ছাড়াও একমাত্র ভরসার জায়গা রেমিট্যান্সেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তিনি। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যে করোনা ছড়িয়ে পড়ায় অনেক প্রবাসী বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন। এ অবস্থায় করোনার প্রভাবে মন্দা ঠেকাতে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে বৃহত্তর সহযোগিতা নিশ্চিত করার অনুরোধ করেছেন অর্থমন্ত্রী।

গতকাল আগারগাঁওয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বাড়তি সহায়তা চান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আমরা সবাই জড়ো হয়েছি কিছু উপায় এবং পথ খুঁজে বের করে মানব সম্প্রদায়ের কাছে আশার আলো দেখাতে।

ভিডিও কনফারেন্সের সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. ফজলে কবির নিজ দপ্তর থেকে এ কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গত তিন বছর ধরে বাংলাদেশ ধারাবাহিক ৭ শতাংশের বেশি হারে প্রবৃদ্ধি অর্জনের পর গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮.১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। চলতি অর্থবছর ৮.২ শতাংশ আশা করেছিলাম। দুর্ভাগ্যক্রমে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশের ক্ষতি জিডিপির ১.১ শতাংশ হতে পারে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এই বিশ্লেষণ করেছে। আমরা যখন ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার অপেক্ষায় আছি, তখন করোনাভাইরাস বাংলাদেশসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে এক মরিয়া পদক্ষেপ হচ্ছে অভূতপূর্ব লকডাউন, শাটডাউন এবং যোগাযোগ ব্যাহতকরণ, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিবার্যভাবে বিরূপ প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। বিশ্ব শেয়ারবাজার ইতিমধ্যে ২৮ থেকে ৩৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই মন্দা দীর্ঘকাল স্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেড় শতাংশে নেমে যেতে পারে। বাংলাদেশও এর প্রভাব অনুভব করতে শুরু করেছে। আমরা উদ্বিগ্ন, কারণ ভাইরাসটি আমাদের অর্থনীতিকে বহুমাত্রিক দিক থেকে আঘাত করতে পারে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউনের কারণে আমাদের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের চাহিদা কমছে। এতে পোশাক শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের অবকাঠামো খাতের প্রকল্পগুলোতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশি শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতিকে অনেকটা চাঙ্গা করে রেখেছে। কিন্তু আমরা উদ্বিগ্ন যে, এই করোনাভাইরাসের কারণে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী বিদেশ থেকে ফিরে এসেছেন। এতে রেমিট্যান্সের ওপরেও নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন।

তিনি বলেন, কোনো দেশের একার পক্ষে এ রকম একটি দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তাই এই সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমরা আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপকে আমাদের পাশে থাকার অনুরোধ করছি। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফকে বিনীতভাবে অনুরোধ করব যে বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে তাদের বৃহত্তর সহযোগিতা নিশ্চিত করবে।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক ১৪ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক তহবিল গঠন করেছে। পাশাপাশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশগুলোর সহায়তার জন্য ৫০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘোষণা করেছে আাইএমএফ। এই অর্থের মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলার পাবে স্বল্প আয়ের দেশগুলো। বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ থেকে একটি বড় অংশ সহযোগিতা আশা করছে সামনের দিনগুলোতে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত