হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল

তত্ত্বাবধায়ক ও অফিস সহকারীর হঠাৎ বদলি

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২০, ০২:০৩ এএম

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল এবং জেলার সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও নার্সরা। জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে কর্মরত মোট ১১৭ জন চিকিৎসক এবং ১১০ জন নার্সের তুলনায় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিই) সংখ্যা নগণ্য। অন্যদিকে দুর্যোগের এই মুহূর্তে ২৫০ শয্যার হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও তার অফিসের প্রধান সহকারীকে হঠাৎ একযোগে বদলি করায় হাসপাতালটির দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় চিকিৎসা টিমে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ১৭ জন চিকিৎসক ও ১৫ জন নার্স রয়েছেন। এ ছাড়া জেলার ৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছেন ১১০ জন চিকিৎসক ও ৯৫ জন নার্স। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারিভাবে ৩০০টি পিপিই পাওয়া গেছে। এর বাইরে ৪০০টি পিপিই সংগ্রহ করা হয়েছে হবিগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো পিপিইগুলো নি¤œমানের বলে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে একজন চিকিৎসক দেশ রূপান্তরের কাছে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো পিপিইগুলো অত্যন্ত নি¤œমানের। এগুলো দিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীর কাছে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।’

হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের আরএমও ডা. শামীমা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২০০ পিপিই আমাদের হাসপাতালে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সেগুলো চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।’

এদিকে করোনার প্রাদুর্ভাব নিয়ে পুরো জেলার মানুষ যখন আতঙ্কে ভুগছেন সেই মুহূর্তে হবিগঞ্জ আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও তার অফিসের প্রধান সহকারীকে সিলেটে বদলি করা হয়েছে। ফলে হাসপাতালের প্রশাসনিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। গত ১২ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক চিঠিতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রথীন্দ্র দেবকে সিলেট ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির অধ্যক্ষ হিসেবে বদলি করে। অন্যদিকে তার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মিজানুর রহমানকে বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) নির্দেশে সিলেট সিভিল সার্জন অফিসে বদলি করা হয়েছে। এই দুটি শূন্য পদে এখন পর্যন্ত কেউ যোগ দেয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই দুর্যোগ মুহূর্তে উচ্চপর্যায় থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন তথ্য পাঠানোর জন্য বলা হয়। এমতাবস্থায় হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও প্রধান সহকারী বদলি হওয়ায় অল্প সময়ে তথ্য সংগ্রহ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত