চট্টগ্রামে বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২০, ০২:০৮ এএম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সবাইকে ঘরে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু ইচ্ছে থাকলেও নিম্ন আয়ের মানুষরা এ নির্দেশনা মানতে পারছেন না। জীবনের ঝুঁকি জেনেও তারা কাজে বেরিয়েছেন। এদের কেউ রিকশা-ভ্যান চালাচ্ছেন; কেউ এটিএম বুথসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে প্রহরীর দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি নিষেধাজ্ঞায় হোটেল-রেস্তোরাঁ ও দোকানপাট বন্ধ থাকায় এসব শ্রমজীবী মানুষ খাবার খাওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটির প্রথম দিন নগরীর কোতোয়ালি, লালদীঘি, আন্দরকিল্লা, এনায়েতবাজার, জুবিলী রোড, লালখানবাজার, টাইগারপাস, মেহেদীবাগ ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। শ্রমজীবীরা জানিয়েছেন, পেটের দায়ে কাজে এসে তারা বিপাকে পড়েছেন। বেশিরভাগ সড়ক ফাঁকা। রিকশা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও যাত্রী মিলছে না। হোটেল খোলা না থাকায় খাবারও পাচ্ছেন না। মার্কেন্টাইল ব্যাংক জুবিলী রোড শাখার এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মী মো. ইরফান জানান, বেলা ২টা বেজে গেলেও তিনি খাবার খেতে পারেননি। সড়কে যানবাহন না থাকায় পরের শিফটের সহকর্মী দেরি করছেন। কখন খেতে পারবেন তার ঠিক নেই। তিনি আরও জানান, পত্রিকায় পড়েছি হোটেল, ফার্মেসি, কাঁচাবাজার ও মুদি দোকান খোলা। কিন্তু কাজে এসে দেখছি সব বন্ধ। কীভাবে কী করব জানি না। এভাবে চললে না খেয়ে মারা যেতে হবে। বুথ থেকে টাকা তুলতে আসা মো. রুবেল জানান, বুথের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সুরক্ষা সরঞ্জাম নেই। এসব নিম্ন আয়ের মানুষের সরকারি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।

সকাল থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত রিকশা চালিয়ে মাত্র ৭০ টাকা আয় করেছেন বাঁশখালীর মো. নিজাম। তিনি বলেন, ‘ভাতের হোটেল বাদ দিলাম, নাস্তার দোকানও খোলা নেই। টাকা নেই বলে বাড়ি যাইনি। টাকা ছাড়া সংসার কী করে চলবে, এজন্য থেকে গেছি। এখন মনে হচ্ছে, বাড়ি গেলেই ভালো হতো।’

স্কুলশিক্ষিকা রুম্পা চক্রবর্ত্তী বলেন, ‘বেশিরভাগ করোনা আক্রান্ত দেশ তার ঘরবন্দি নাগরিকদের খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। আমাদের দেশে এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে লকডাউন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। এতে তো মানুষ না খেতে পেয়ে মারা যাবে।’

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘নগরীতে চসিক এবং উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসন নিম্ন আয়ের মানুষদের সরকারি সহায়তা দেবে। বরাদ্দ এসেছে, শিগগিরই বিতরণ করা হবে।’

রংপুরে রাস্তায় নিম্ন আয়ের মানুষ : করোনাভাইরাসে সংক্রমণের ঝুঁকি জেনেও ঘরে থাকতে পারছেন না নিম্ন আয়ের মানুষরা। গতকাল রংপুর মহানগরীর শাপলা চত্বর, বাস টার্মিনাল, লালবাগ, রেলস্টেশন ও জাহাজ কোম্পানি মোড়ে তেমন মানুষ না থাকলেও রিকশা-ভ্যান ও অটোরিকশা চলতে দেখা গেছে। চালকরা যাত্রীর আশায় শহরের অলিগলি ছুটছেন। রিকশাচালক মনসুর আলী বলেন, ‘হামার করার কিছু নাই। একবেলা ইসক্যা না চালাইলে খামো কী? গরিবের ঘরে খাবার ব্যবস্থা করি দ্যাশোত কার্পু করলে ভালো হইল হয়।’ কাজের খোঁজে বাস টার্মিনালে বসে থাকা দিনমজুর কাশেম মিয়া বলেন, ‘ঘরের তো বউ বাচ্চাক থুইছি। কিন্তু মুইয়ো যদি বন্দি থাকো, তাইলে খাবার দেবে কায়? যদি এক দুইশো টাকা কামাই হয়, এই জনতে বাইরোত আচু।’

এদিকে শহরে ফার্মেসি ও মুদি দোকান খোলা থাকলেও খুব একটা ক্রেতা নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি টহল দিচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন সচেতনতায় মাইকিং করছে। রংপুরে করোনা মোকাবিলায় গঠিত নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, ‘বারবার বলা হলেও মানুষজন বাইরে ঘোরাফেরা করছে। নিয়ম না মানলে সবাইকে বিপদে পড়তে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত