বিত্তবানরা খেটে খাওয়া মানুষদের পাশে দাঁড়ান : কাদের

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২০, ০৬:২১ এএম

করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকটের এ সময়ে খেটে খাওয়া দিনমজুর-অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে সমাজের ধনী ও বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ধানম-িতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা হুমকির পাশাপাশি দরিদ্র্য ও সীমিত আয়ের মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যেই অনেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরবর্তী অর্থনৈতিক বৈশ্বিক মহামন্দার ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। বিশ্বের এ সংকটকালীন মুহূর্তে সমাজের ধনী ও বিত্তবানদের প্রতি আমাদের চারপাশে খেটে খাওয়া দিনমজুর-অসহায় মানুষের

প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ানোর জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। ইতিমধ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে এসব দরিদ্র্য জনগণের কষ্ট লাঘবের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা চালু করেছেন এবং তাদের সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মী ও বিশেষ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। দলীয় নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারের গৃহীত কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আমি জনগণের প্রতি আহ্বান রাখছি, আপনারা কোনো প্রকার গুজবে কান দেবেন না। সঠিক তথ্যের জন্য প্রচলিত গণমাধ্যম তথা টেলিভিশন-রেডিও-সংবাদপত্রের মাধ্যমে প্রচারিত সরকারি নির্দেশনা মেনে চলুন। প্রয়োজনে সরকার নির্দেশিত হটলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করুন। মতলববাজ, গুজব সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে প্রশাসনকে অবহিত করুন। এই ধরনের গুজব শুধু আমাদের সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, মানব সভ্যতা আজ এক সংকটের মুখোমুখি। সারা বিশ্ব আজ প্রাণঘাতী নোভেল করোনাভাইরাসে আতঙ্কিত। প্রতিদিন মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। পরম করুণাময়ের অসীম কৃপায় বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য নিবিড়ভাবে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন এবং সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। জনগণকে রক্ষার জন্য সম্ভাব্য সব প্রস্তুতি গ্রহণ করে চলেছেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশে বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র থেকেও সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও চীন বাংলাদেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসামগ্রী বিশেষ বিমানযোগে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চীন থেকে আরও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছাবে।

ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা বাংলাদেশের চিকিৎসক-নার্স ও জনগণ সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই শেখ হাসিনার সরকার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করে চলেছে। আপনারা আতঙ্কিত হবেন না। ধৈর্য, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেম নিয়ে একযোগে আপনাদের সবাইকে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস প্রতিরোধে কাজ করতে হবে। ঘরে ঘরে সচেতনতা ও সতর্কতার দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, এই মারাত্মক ভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ গৃহবন্দি রয়েছে। বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলো এ পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। ধনী-গরিব, উন্নত-উন্নয়নশীল সব জাতিরাষ্ট্র পরিস্থিতি সামাল দিতে একে অপরের সাহায্য সহযোগিতা গ্রহণ করছে। সম্মিলিত প্রয়াসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে সক্ষম হব।সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া ও উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত