বাজারে নিরাপদ দূরত্বে থাকছেন না অনেকে

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২০, ০৬:২৬ এএম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে। তবে এর বাইরে রয়েছে কাঁচাবাজার, মুদি ও ওষুধের দোকান। আর যেকোনো প্রয়োজনে বাইরে বের হলে কিংবা কেনাকাটা করার সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেনাকাটার সময় বেশিরভাগ মানুষ এখনো নিরাপদ দূরত্বে থাকছেন না, অনেকে মাস্কও ব্যবহার করছেন না। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে অনেক দোকান খোলা পাওয়া যায়নি। ক্রেতাও ছিল অনেক কম। বেশিরভাগ পণ্যের দামই ছিল আগের মতো চড়া। গতকাল রাজধানীর কাঁঠালবাগান,  হাতিরপুল, কারওয়ানবাজার ঘুরে দেখা যায়, অনেক দোকান বন্ধ। ক্রেতার উপস্থিতিও অনেক কম। যেসব দোকান খুলেছে সেগুলোর সামনে একাধিক ক্রেতা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করছেন। বয়স্করাও ছিলেন। তাদের বেশিরভাগেরই মুখে ছিল না মাস্ক, হাতে ছিল না গ্লাভস। আর বিক্রেতাদেরও নিজেদের সুরক্ষায় বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। টাকা গোনার সময় অনেককেই মুখের লালা ব্যবহার করতে দেখা গেছে। তবে কয়েকজন ক্রেতা ব্যক্তিগত সুরক্ষা পোশাক (পিপিই) পরে বাজার করতে আসেন। কাঁঠালবাগানের এক বিক্রেতা বলেন,

 ‘টাকায় করোনা হয় জানি। কিন্তু অভ্যাস হয়ে গেছে।’ ওই বাজারের এক ক্রেতা বলেন, ‘করোনাঝুঁকিতে বাজার আসতেও ভয় লাগে। বাজার করেই চলে যাব।’ কয়েকজন ক্রেতাকে দেখা গেল সবজির দোকানে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকতে। সতর্ক নন কেন প্রশ্ন করলে একজন বলেন, ‘খেয়াল থাকে না। এখনই চলে যাব।’

বাজারে ক্রেতা কম থাকলেও কমেনি পণ্যের দাম। গতকাল প্রতি কেজি মিনিকেট চাল খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে ৬০-৬২, বিরি-২৮ চাল ৫২-৫৫, মোটা চাল ৪২-৪৪, নাজিরশাইল ৭০-৭৫, মসুর ডাল (চিকন) ১৪০, মসুর ডাল (মাঝারি) ১২০, মসুর ডাল (মোটা) ১০০, পেঁপে ৩০, চীনা রসুন ১৯০, দেশি রসুন ১৪০, পেঁয়াজ ৫০-৬০, আদা ১৮০, আলু ২৮, বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটার ১১০-১১৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

সপ্তাহ ব্যবধানে বাজারে দাম কমেছে শুধু পাকা টমেটোর। প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ২০-৩০ টাকা দরে। এছাড়া কেজিপ্রতি করলা ৫০-৬০, বরবটি ৪০-৫০, শিম ৪০, বেগুন ৪০-৫০, শসা ৪০-৫০, চিচিঙ্গা ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি লাউ বিক্রি হয়েছে ৪০-৫০ টাকা দরে।

ছোট আকারে রুই, কাতল, মৃগেলের কেজি ২২০, বড় রুই, কাতল, মৃগেল ৩০০-৪০০, পাঙ্গাশ ১৪০, তেলাপিয়া ১৫০-১৭০, হাইব্রিড কই ২০০-২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

বাজারে কিছুটা কমেছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম। গতকাল প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১০ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে ১২০-১২৫ টাকা, ডিমের হালিতে ২ টাকা কমে ৩৬ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া লেয়ার ২০০-২২০, গরুর মাংস ৫৫০-৬০০ ও খাসির মাংস ৭৫০-৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

চালের দামের বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনা আতঙ্কে ভোক্তা দুই-তিন দিনে সব চাল কিনে নিয়েছে। এতে বাজারে চালের সংকট সৃষ্টি হয়। এ সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী দাম বাড়ায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অভিযান চালাচ্ছে। এছাড়া আগামী মাসের শেষের দিকে নতুন বোরো চাল বাজারে আসবে। এতে দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে আশা করছি। আর গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষদের কথা বিবেচনা করে দেশব্যাপী ১০ টাকা কেজি দরে খোলা বাজারে চাল (ওএমএস) বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আশা করছি, জনসাধারণের খুব একটা কষ্ট হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত