পথচারীদের হাত ধোয়াতে রাস্তায় শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২০, ১২:১৮ এএম

সারা দেশে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। দোকানপাট, যানবাহন বন্ধ। সভা-সমাবেশ এমনকি কয়েকজনের একসঙ্গে জড়ো না হওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মানুষকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। সংক্রমণ রোধে মাস্ক ব্যবহার ও বারবার হাত ধোয়ার কথা বলা হয়েছে।

সারা দেশের মতো রূপগঞ্জেও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে স্বাস্থ্যকর্মী, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় উপজেলার গুতিয়াবো ও মধুখালী এলাকার স্কুলশিক্ষার্থীরা মিলে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে। গত শুক্রবার দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা গুতিয়াবো ও মধুখালী এলাকার রাস্তার মাঝে বাঁশ দিয়ে আটকে পথচারীদের হাত ধোয়াচ্ছে। এ ছাড়া মিনি ট্রাক, অটোরিকশা, ইজিবাইক ও প্রাইভেট কার আটকে চাকায় জীবাণুনাশক স্প্রে করছে। একই সঙ্গে এসব যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের হাত ধুইয়ে এলাকায় প্রবেশ করাচ্ছে তারা। আর দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করার জন্য মানুষকে সচেতন হওয়ারও পরামর্শ দিচ্ছে। তাদের এমন কাজ মানুষের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল মোল্লা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। তারা গুতিয়াবো ও মধুখালী এলাকায় প্রবেশকারীদের হাত ধোয়ার জন্য সচেতন করছে। এতে করে সাধারণ মানুষ করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতন হবে।’

সাগর নামে এক শিক্ষার্থী বলে, ‘বর্তমানে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। এখন লেখাপড়ার চাপ না থাকায় আমরা করোনা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে এ উদ্যোগ নিয়েছি। যত দিন পর্যন্ত করোনার প্রভাব দেশ থেকে না দূর হবে, তত দিন আমরা এ কার্যক্রম চালিয়ে যাব।’

স্থানীয় শিক্ষক ফোরকান উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীরা বাসায় না থেকে মানুষকে সচেতন করছে। তারা হাত ধোয়ানোসহ যেসব উদ্যোগ নিয়েছে তা বিরল। গুতিয়াবো এলাকার ব্যবসায়ী ছাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জীবাণুনাশক সাবান, স্প্রে সরবরাহ করে দিয়েছি। তারা গ্রামের প্রবেশপথে যাতায়াতকারীদের বুঝিয়ে হাত ধুইয়ে দিচ্ছে। এতে মানুষ সচেতন হচ্ছে।’

রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোরশেদ আলম বলেন, ‘আমাদের গ্রামকে সুরক্ষা দিতে এসব শিক্ষার্থীর কর্মসূচি প্রশংসনীয়। তবে তারা যেন দূরত্ব বজায় রাখে বা নিজেরাও নিরাপদ থাকে, সে বিষয়টি আমরা (জনপ্রতিনিধি) লক্ষ রাখছি।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাইদ আল মামুন বলেন, শিক্ষার্থীদের এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগে সাধারণ মানুষ সচেতন হবেন। করোনা থেকে রক্ষা পেতে সবার স্বেচ্ছায় সামাজিক দূরত্ব তৈরি করা উচিত। হাত ধোয়াসহ পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনের বিকল্প নেই। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগম বলেন, করোনা প্রতিরোধে শিক্ষার্থীরা ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছে। গুতিয়াবো ও মধুখালী এলাকার মতো উপজেলার অন্য এলাকাগুলোতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে সাধারণ মানুষ আরও সচেতন হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেন মানুষকে জিম্মি করতে না পারে সে জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত